স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার জেরে বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করেন ছেলে ফারুক (২৭)। হত্যার পর লাশের পাশেই নির্বিকার বসে ছিলেন তিনি।
রোববার (৯ নভেম্বর) রাত ১২টার দিকে শিবচরের বাঁশকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ফারুক জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিল নিজের স্ত্রীর সঙ্গে বাবা ও ভাইয়ের পরকীয়া সম্পর্ক!
জানা গেছে, প্রথমত নিজের পছন্দের মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দেয়নি পরিবার। যার সঙ্গে বিয়ে করিয়েছে সেই স্ত্রীর সঙ্গে তার ভাই ও বাবার অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। একপর্যায়ে স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়িও হয়ে যায়। এর পেছনেও ছিল বাবার হাত। বাবার সঙ্গে স্ত্রীর পরকীয়ার সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরেই বাবাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন ছেলে ফারুক। সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করতেই বাবাকে নিয়ে কাজের সন্ধানে চাঁপাই নবাবগঞ্জ থেকে মাদারীপুরের শিবচরে আসেন। মূলত কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন তার বাবা মতিউর। পরে রাতের বেলা ফারুকের স্ত্রীর সঙ্গে তার বাবা মোবাইলে কথা বলা শেষে ঘুমিয়ে পড়লে কোদাল দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেন তাকে।
গ্রেপ্তারের পর সোমবার (১০ নভেম্বর) বিকেলে মাদারীপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হুমায়ুন কবিরের আদালতে হাজির করা হলে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দিতে ঘটনার বর্ণনা দেন বাবাকে হত্যাকারী ছেলে মো. ফারুক।
সোমবার রাতে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম।
নিহত মতিউর ইসলাম চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট থানার হারিয়াবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দিনমজুরের কাজ করতেন।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘মতিউর ও তার ছেলে ফারুক কাজের সন্ধানে মাদারীপুর জেলার শিবচরের বাঁশকান্দি ইউনিয়নের পঞ্চগ্রামে এসে রসুন বপনের কাজ নেন। রোববার রাতে বাবা-ছেলে রাতের খাবার শেষে একসঙ্গে একই বিছানায় ঘুমাতে যান। রাত ১০টার পর বিছানায় শুয়ে ছেলে ফারুকের বউয়ের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেন বাবা মতিউর। এসময় পাশের ঘরে বসে বিড়ি টানছিলেন ফারুক।
পরে রাত সোয়া ১২টার দিকে ঘুমিয়ে পড়লে ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত বাবার মুখে কোদাল দিয়ে কোপ মারেন। যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকলে মৃত্যু নিশ্চিত করতে মুখ, মাথা আর বুকসহ এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। মাত্র আড়াই মিনিটে সর্বমোট ১৭টি কোপ দেন। মতিউরের মৃত্যু নিশ্চিত হলে তার লাশের পাশে বসেই বিড়ি ধরিয়ে টানতে থাকেন ফারুক।
তিনি আরও জানান, ‘শব্দ পেয়ে পাশের ঘর থেকে বাড়ির মালিকের ছেলে ও আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং মতিউরকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। এসময় ফারুককে অবিচল আর নিশ্চুপ থাকতে দেখে বাড়ির মালিক শিবচর থানায় ফোন দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘাতক ছেলেকে আটক করে। একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদাল, ফারুকের রক্তাক্ত জামা-কাপড়সহ অন্যান্য আলামত জব্দ করে পুলিশ।’
লাশের সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় মতিউরের স্ত্রী কোহিনূর বেগম বাদী হয়ে তার ছেলেকে আসামি করে শিবচর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সোমবার বিকেলে গ্রেপ্তার ফারুককে মাদারীপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হুমায়ুন কবিরের আদালতে হাজির করা হলে তার বাবা মতিউরকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন। নিজের দোষ স্বীকার করে বিচারকের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেওয়া শেষে ফারুককে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী বাবাকে হত্যার জন্য আগে থেকেই পাশের রুমে একটি কোদাল লুকিয়ে রেখেছিলেন ফারুক। অপেক্ষায় ছিলেন কখন তার বাবা ঘুমাতে যাবেন সেই সুযোগের।’