নিজস্ব প্রতিনিধি
ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য রমজান মাস বছরের সবচেয়ে পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ সময়। এ মাসজুড়ে বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আধ্যাত্মিক পরিবেশের মধ্যে রোজা পালন করেন।
রমজানে প্রতিদিন সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও সকল প্রকার ভোগ-বিলাস থেকে বিরত থেকে রোজা রাখা হয়। এর মাধ্যমে আত্মসংযম, ধৈর্য ও তাকওয়া অর্জনের শিক্ষা দেওয়া হয়। শুধু ক্ষুধা-তৃষ্ণা সহ্য করাই নয়, বরং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকা এবং নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চাই রোজার মূল উদ্দেশ্য।
পবিত্র রমজান মাসকে ঘিরে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, চায়ের দোকান ও হোটেলগুলোতে দেখা যাচ্ছে এক ভিন্ন চিত্র। বাহারি রঙের লাল, কালো ও বিভিন্ন প্রিন্টের কাপড় এবং চটের পর্দা টাঙিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন দোকানিরা। দিনের বেলায় পর্দার আড়ালে চলছে চা, পান, বিড়ি, সিগারেট ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য বিক্রি ও গ্রহণ।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, চান্দাইকোনা বাজার, রায়গঞ্জ বাজার, ভূঁইয়াগাতী বাস স্ট্যান্ড, শালিয়াগাড়ী বাজার, নিমগাছী বাজারসহ উপজেলার প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার এলাকায় ছোট-বড় চায়ের দোকান ও হোটেলে এমন চিত্র চোখে পড়ে। বাইরে থেকে দোকানগুলো বন্ধ মনে হলেও ভেতরে পর্দার আড়ালে বসে চলছে খাবার গ্রহণ।
দোকান মালিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে অনেকে জানান, “পেটের দায়ে রমজানে পর্দা টাঙিয়ে ব্যবসা করছি। এভাবে ব্যবসা না করলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।” তারা আরও বলেন, অনেক অসুস্থ, ভ্রমণরত ও রোজা রাখতে অক্ষম মানুষও দিনে খাবার গ্রহণ করেন, তাই তাদের প্রয়োজন মেটাতেই এ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, পর্দার আড়ালে খাবার গ্রহণকারী অনেকেই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। সচেতন মহলের মতে, বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে নজরদারির দাবি রাখে। তাদের বক্তব্য, রমজান মাসের পবিত্রতা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।
সাধারণ পথচারীদের সঙ্গে কথা বললে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। কেউ কেউ বলেন, “পবিত্র মাসে প্রকাশ্যে দোকান খোলা রাখা বা পর্দার আড়ালে খাবার গ্রহণ অন্যদের রোজা না রাখার দিকে উৎসাহিত করতে পারে। এমন কাজ জনসম্মুখে না করাই উত্তম।” আবার কেউ কেউ মনে করেন, যাদের রোজা রাখার সামর্থ্য নেই, তাদের জন্য মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে নিমগাছী বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, “কোরআন ও হাদিসে পবিত্র রমজান মাসে পানাহার ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ এসেছে। এ মাসে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমের ওপর সাওম পালন ফরজ। তবে অসুস্থ, গর্ভবতী নারী, ডায়াবেটিক রোগী, মুসাফির ও ঋতুবতী নারীদের জন্য বিধান শিথিল রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও দাম্পত্য সম্পর্ক থেকে বিরত থাকাই রোজা। এ মাসে ইবাদতের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। তবে যদি কেউ প্রকৃতপক্ষে রোজা রাখতে অক্ষম ব্যক্তি বা মুসাফিরদের জন্য খাবার বিক্রির উদ্দেশ্যে পর্দা ব্যবহার করে, তা শরীয়তসম্মত হতে পারে। কিন্তু যারা রোজা রাখতে সক্ষম, তাদের জন্য পর্দার আড়ালে খাবার প্রস্তুত ও বিক্রি করা নাজায়েজ।”
রমজান মাস রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস হিসেবে মুসলমানদের কাছে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। এই মাসেই পবিত্র কুরআন নাজিল হয়েছে এবং লাইলাতুল কদরকে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম বলা হয়েছে। তাই পবিত্র এ মাসে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিধান, সামাজিক মূল্যবোধ ও মানবিক দিকগুলো সমন্বয় করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব নুরুল হক নয়ন
✆ ০৯৬৩৮-৯০৭৬৩৬। ই মেইল: thedailydrishyapat@gmail.com
।
Copyright 2025 Pratidinerdrishyapat