সিরাজগঞ্জে শহর ও গ্রাম – গঞ্জের হাট বাজারে ও ফলের দোকানগুলোতে বেচা-কেনা হচ্ছে পঁচা ও মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুর। এক শ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ীরা রমজান মাস উপলক্ষে পুরাতন, পঁচা ও মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুর কম দামে এনে বেশি দামে বিক্রি করছে। এতে ক্রেতা সাধারণ হচ্ছে প্রতারিত।
রমজান মাসে ইফতারের সবচেয়ে প্রচলিত খাবারের নাম খেজুর। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করার ফজিলত ও বরকতময়। এছাড়াও খেজুরের পুষ্টিগুণও অনেক। এই সুযোগে সিরাজগঞ্জের গ্রাম-গঞ্জের বিভিন্ন হাট বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীরা পুরাতন, পঁচা ও মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুর নতুনভাবে মোড়কজাত করে বিক্রি করছে দেদারসে। এগুলোর প্রতিরোধে প্রশাসনের নিয়মিত কোনো তদারকি নেই।
আড়ত, হাট, বাজার ঘুরে দেখা যায়, রোজার মৌসুমে রোজাদারদের পছন্দের পণ্য খেজুর। সেই খেজুর ক্রেতাদের কাছে সুলভে বিক্রি করতে দোকানীরা বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানিকৃত নানা ব্যান্ডের খেজুরের পসরা সাজিয়ে বসে আছে। ফলের দোকানের পাশাপাশি বিভিন্ন মুদি দোকানগুলোতেও পাওয়া যায় চকচকে মোড়কে সাজানো বিভিন্ন জাতের খেজুর। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে এসব খেজুর বাহারি নাম ব্যবহার করছেন দোকানীরা। যেমন মরিয়ম, আজুহা, জিহাদি, ডালা, বড়ইসহ বিভিন্ন নাম। এসব খেজুরের মেয়াদ ও নাম সঠিক কিনা তা ক্রেতারা কিছুই জানেন না।
আমদানিকৃত অধিকাংশ প্যাকেটে মেয়াদের তারিখ ও বিএসটিআইয়ের অনুমোদিত সিল নেই। ফলে পুরাতন ও পঁচা খেজুরের গায়ে তেল, চিনি ও কেমিক্যাল মিশিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে। এতে ক্রেতা সাধারণের বোঝার কোনো উপায় নেই যে খেজুর পঁচা ও মেয়াদোত্তীর্ণ কি-না ! এমন খেজুরের দামেও রয়েছে অনেক তফাত। ফলে ক্রেতা সাধারণ হচ্ছে প্রতারিত।
স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জানা যায়, অনেক ক্ষেত্রে পঁচা খেজুরে তেল, চিনি ও কেমিক্যাল মিশিয়ে চকচক করে খোলা অবস্থায় হাট বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। এসব খেজুর খেলে ফুড পয়জনিংয়ের মত স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি রয়েছে। কৃত্রিম তেলের আবরণের কারণে ভেজাল খেজুর প্রায়শই অতিরিক্ত চকচকে হয়। আর খেজুর যাতে না পঁচে তার জন্য ক্যালসিয়াম কার্বাইড নামক এক ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করে থাকেন। এতে খেজুর বাহির থেকে না পঁচলেও ভিতরে ঠিকই পঁচন ও পোকা ধরে। এমন খেজুর খেলে বমি, দুর্বলতা, চর্মরোগ, কিডনি সমস্যা, ক্যানসা ও মাথা ব্যাথা হতে পারে।
উত্তরাঞ্চলের প্রবেশপথ সিরাজগঞ্জের সবচেয়ে বড় ফলের আড়ত হাটিকুমরুল বাজারের উত্তরপাশে দত্তকুশা বুড়িবাড়ী ফলের আড়ত এবং শহরের এসএস রোডে চান মিয়া, বাহিরগোলার ছালাম হাজীর আড়তসহ বিভিন্ন ফলের দোকানের পাশাপাশি গ্রাম গঞ্জের হাট বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। এসব খেজুর ঢাকা ও চিটাগং থেকে এনে বিক্রি করা হয়। এগুলো জেলা উপজেলাসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকার ও খুচরা বিক্রেতারা নিয়ে বিক্রি করে।
কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ( ক্যাব ) সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক কাজী সোহেল রানা জানান, সিরাজগঞ্জে মাত্র ২/৩ জন আমদানি কারক থাকলেও অধিকাংশ ব্যবসায়ী ঢাকা ও চিটাগং থেকে এ খেজুর এনে বিক্রি করে। যার কারণে খেজুরের গুণগত মান দেখার সুযোগ হয় না।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো, আমিনুল ইসলাম বলেন, রমজান মাস উপলক্ষে প্রতিদিন নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। তারপরও রমজান মাসে এমন ঘটনা খুবই দুঃখ জনক। অতি দ্রুত এসকল অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







