সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জে পবিত্র ঈদুল আযহার আনন্দ ভাগাভাগি করতে যাওয়া সাধারণ মানুষের আনন্দের ওপর জেঁকে বসেছে গণপরিবহনের লাগামহীন ভাড়ার জুলুম। জেলার অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে অটোরিকশা, সিএনজি, অটো ভ্যান ও লেগুনা চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো দ্বিগুণ, এমনকি কোনো কোনো রুটে তিনগুণ ভাড়া আদায় করছে বলে তীব্র অভিযোগ উঠেছে। ঈদের এই মৌসুমে প্রশাসনের কোনো নজরদারি না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ পথচারী ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
শুক্রবার সকালে (২৯মে) সরেজমিনে জেলার
ব্যস্ততম বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও বাসস্ট্যান্ডগুলো ঘুরে দেখা গেছে, কড্ডার মোড়, কাঠেরপুল, পিপুলবাড়িয়া, সয়দাবাদ, এনায়েতপুর মোড়, বেলকুচি, হাটিকুমরুল, সলঙ্গা, তাড়াশ,
চান্দাইকোনা, ভূঁইয়াগাতি, পাঙ্গাসী এবং ঐতিহ্যবাহী নিমগাছি বাজারসহ উপজেলার প্রতিটি সড়কেই চলছে ভাড়ার নৈরাজ্য। স্বাভাবিক সময়ে যে দূরত্বের ভাড়া ১৫ থেকে ২০ টাকা, ঈদের দিন থেকে শুরু করে সেখানে জনপ্রতি আদায় করা হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। সিএনজি ও লেগুনাচালকরা সিন্ডিকেট করে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ টাকা আদায় করছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যাত্রীদের সাথে চালকদের হাতাহাতি ও বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটছে।
ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ভ্যানচালকরাও পিছিয়ে নেই। পাড়া-মহল্লার রাস্তা থেকে শুরু করে প্রধান সড়কগুলোতে সামান্য দূরত্বের জন্যও তারা যাত্রীদের পকেট কাটছে। কড্ডার মোড়ে
অটোরিকশার জন্য অপেক্ষায় থাকা এক চাকুরিজীবী যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ঈদের ছুটিতে সপরিবারে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে বের হয়েছি। কিন্তু রাস্তায় নেমে দেখি ভাড়ার কোনো নিয়ম নেই। যে যার মতো চাচ্ছে। আমরা যেন জিম্মি হয়ে পড়েছি চালকদের কাছে।" সিরাজগঞ্জ বাজার স্টেশন থেকে কাজিপুরে যাওয়ার জন্য দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা ফারজানা খাতুন নামে এক নারী যাত্রী জানান, ভাড়ার কারণে বিপাকে পড়েছেন তিনি সিএনজিতে অতিরিক্ত ভাড়া না দিলে যাত্রীদের তোলা হচ্ছে না। অনেক যাত্রী কয়েক গুণ বেশি টাকা দিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে কয়েকজন অটোরিকশা ও সিএনজি চালকের সাথে কথা বললে তারা জানান, ঈদের সময় রাস্তাঘাটে যানজট থাকে এবং ফিরতি পথে অনেক সময় খালি গাড়ি নিয়ে আসতে হয়। এছাড়া ঈদের দুই-তিন দিন একটু বাড়তি আয় না করলে তাদের পরিবার চলে না। তবে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বৈধ অনুমতি বা যৌক্তিক কারণ তারা দেখাতে পারেননি। সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় অভিযোগ প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে। জেলার মহাসড়ক আঞ্চলিক সড়ক স্থানীয় সড়কগুলোর
গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো তদারকি চোখে পড়েনি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ঈদের এই সময়ে মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনা করে দু-একটি জায়গায় জরিমানা করা হলে এই নৈরাজ্য অনেকটাই কমে আসত। কিন্তু প্রশাসনের কোনো নজরদারি না থাকায় চালকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
পবিত্র ঈদুল আযহার এই আনন্দঘন মুহূর্তে যাতায়াতের এই ভোগান্তি সাধারণ মানুষের ঈদ উৎসবকে মলিন করে দিচ্ছে। ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণের দাবি, অনতিবিলম্বে প্রতিটি রুটে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হোক এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারী চালক ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব নুরুল হক নয়ন
✆ ০৯৬৩৮-৯০৭৬৩৬। ই মেইল: thedailydrishyapat@gmail.com
।
Copyright 2025 Pratidinerdrishyapat