সোহেল রানা চৌহালী প্রতিনিধি
তাঁত সমৃদ্ধ সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরের তাঁতকারখানায় বাহারি নাম ও নতুন ডিজাইনের উন্নতমানের জামদানি, সুতি জামদানি, কাতান, বেনারসিসহ বিভিন্ন ধরনের শাড়ি তৈরি হলেও কাঁচামালের আকাশচুম্বী দামে দিশেহারা এই এলাকার তাঁতিরা। এনায়েতপুর থানা এলাকাতেই ৬০ হাজার তাঁত রয়েছে, সূতা,রং, রাসায়নিকের দাম বৃদ্ধিজনিত কারণে অধিকাংশ তাঁত বন্ধ হয়ে গেছে,বেকার হয়ে পড়েছে ৪০ হাজার তাঁতশ্রমিক।
খোলা বাজার থেকে তাঁতিরা ৩/৪ গুন বেশী দাম দিয়ে সুতা রং রাসায়নিক কিনে কাপড় তৈরী করতে যে সাড়ীটি ৪০০টাকা খরচ হতো সেটি এখন খরচ হচ্ছে ৮০০ টাকা। এজন্যে দায়ী বাংলাদেশ তাঁতবোর্ড,
তারা গত ২ বৎসর যাবৎ তাঁতিদেরকে (আংশিক শুল্কমুক্ত) সুতা রং রাসায়নিক আমদানি সুবিধা না দেয়ার কারণেই খোলা বাজারে সিন্ডিকেট তৈরী হচ্ছে, বাধ্য হয়ে সাধারন তাঁতীরা ৩/৪ গুণ বেশী দাম দিয়ে সিন্ডিকেটকারীদের কাছ থেকে সূতা রং রাসায়নিক কিনে নিয়ে কাপড় তৈরী করে লোকসান খাচ্ছে।
বাজার নিয়ন্ত্রণে তাঁতবোর্ড প্রয়োজনীয় কোন ব্যবস্হা গ্রহন করেনি, তাঁতিদের জন্য তাঁত বোর্ড,গত ২ বৎসর যাবৎ তাঁত বোর্ড থেকে তাঁতীরা কোন প্রকার সহযোগিতা পায়নি।
তাঁতবোর্ড থেকে তাঁতীরা সূতা,রং রাসায়নিক (আংশিক শুল্কমুক্ত) আমদানি সুপারিশ পেলে খোলা বাজারও নিয়ন্ত্রণে থাকতো এবং তাঁতকারখানাগুলো বন্ধ হতোনা, তাঁতশ্রমিকরা বেকার হয়ে অর্ধাহারে অনাহারে জীবন-যাপন করতে হতোনা।
এনায়েতপুরের তাঁত পল্লীর তাঁত মালিক সফিকুল ইসলাম জানান, শাড়ি তৈরির প্রধান কাঁচামাল রং ও সুতার বাজার নিয়ন্ত্রণ করা গেলে ঐতিহ্যবাহী এ শিল্প আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।
গোপালপুর গ্রামের তাঁত মালিক আনোয়ার হোসেন খান বলেন, সূতা,রং রাসায়নিকের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় আমরা দিশেহারা। আমার কারখানায় ৩২টি তাঁত রয়েছে, এখন ১০টি তাঁত চালু আছে, ২২টি বন্ধ হয়ে গেছে, বন্ধ হওয়ার একমাত্র কারণ হচ্ছে ৪০০টাকার কাপড় এখন তৈরী করতে ৮০০ টাকা পরণ পড়ছে, সেটি বিক্রি হচ্ছে ৬০০/৬৫০ টাকায়। এভাবে লোকশান খেতে খেতেই আমার কারখানার ২২টি তাঁত বন্ধ হয়ে গেছে।
খুকনী গ্রামের বিশিষ্ট তাঁত ব্যবসায়ী অনিক আহমেদ বলেন, এনায়েতপুরের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। সরকারের বস্ত্রমন্ত্রনালয়ের সুনজর ও তাঁতবোর্ডের উপর করা নজরদারী থাকলে এই শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব নুরুল হক নয়ন
✆ ০৯৬৩৮-৯০৭৬৩৬। ই মেইল: thedailydrishyapat@gmail.com
।
Copyright 2025 Pratidinerdrishyapat