দৃশ্যপট ডেস্ক রিপোর্টঃ
শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে যখন সকালবেলার কুয়াশা ধীরে ধীরে বসে যায়, তখন সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ ও তাড়াশ অঞ্চলের গ্রামগুলোয় শুরু হয় এক অন্যরকম ব্যস্ততা। খেঁজুর গাছের মাথায় ঝুলে থাকা মাটির হাঁড়ি ভরে ওঠে সারা রাতের রসের দান। সেই রস নামতেই জেগে ওঠে গ্রামের চুলা—খেঁজুর ও আখের নতুন গুড় তৈরির চিরচেনা আনন্দরীতি।
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ,তাড়াশ, নাটোর কিংবা বনপাড়ার মাঠঘেরা জনপদে শীত মানেই রস-গুড়ের মৌসুম। গাছ প্রস্তুত করা, পাতা কাটা, হাঁড়ি ঝুলানো—সব কিছুতেই যুক্ত থাকেন গ্রামের পরিশ্রমী গাছি ও কৃষকরা। রাতভর জমে থাকা সেই স্বচ্ছ রস ভোর হতেই বড় বড় পাতিলে তোলা হয়। চুলার তাপে ফুটতে থাকা রসের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। মিষ্টি ঘ্রাণে তখন পুরো গ্রামের বাতাস যেন অন্য রকম হয়ে ওঠে।
চান্দাইকোনা বাজারে গুড় ব্যাবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, এখনও তেমন জমে উঠেনি তবে সামনে সপ্তাহে থেকে হবে।
নিমগাছী বাজারে গুড় ব্যাবসায়ী নির্মল জানান,মোকাম দাম ঠিক আছে, স্থানীয় গাছী থেকে ও বনপাড়া থেকে গুড় কেনা হয়।
তাড়াশ বাজারের গুড় ব্যবসায়ী রহমান ও জহুরুল ইসলাম জানান, প্রতি মৌসুমের মতো এবারও বৃহস্পতিবার ও সোমবারের হাটকে ঘিরেই মূল বেচাকেনা। তারা রাজশাহীর ঝলমলিয়া এবং নাটোরের বনপাড়া পাইকারি বাজার থেকে মিনি ট্রাকে নতুন গুড় এনে সাজিয়ে রাখছেন।
তাদের ভাষায়,“এবার নতুন খেঁজুর গুড় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা আর আখের গুড় ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করছি। শীত বাড়লে চাহিদা বাড়বে, তখন দামও একটু ওঠানামা করবে।”
নতুন গুড় হাতে নিয়ে বাজারে আসা হাফিজা সুলতানা বলেন,“নতুন গুড় দিয়ে জলপাইয়ের আচার বানাব। সারাবছর খাওয়া যাবে। আর অতিথি এলে নতুন গুড়ের পিঠা–পায়েস—এমন স্বাদ তো শীতে আর কোথায়?"
গ্রামবাংলার শীত যেন গুড় ছাড়া অসম্পূর্ণ। কৃষকদের ঐতিহ্য ও পরিশ্রমে তৈরি এই গুড় শুধু খাবার নয়—এ যেন শীতের প্রথম আনন্দঘ্রাণ, যেটি হাট থেকে ঘরে পৌঁছে যায় সবার কাছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব নুরুল হক নয়ন
✆ ০৯৬৩৮-৯০৭৬৩৬। ই মেইল: thedailydrishyapat@gmail.com
।
Copyright 2025 Pratidinerdrishyapat