মো: আব্দুর রহীম মিঞা, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
শিক্ষা একটি জাতির মেরুদণ্ড। আর সেই মেরুদণ্ডকে শক্তিশালী করতে প্রয়োজন মেধার বিকাশ, সুযোগের সম্প্রসারণ এবং শিক্ষকদের যথাযথ মূল্যায়ন। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় অনুষ্ঠিত হলো মেধাবী ও সুবিধাবঞ্চিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষককে সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠান। মানবিক ও শিক্ষাবান্ধব এই আয়োজন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। শুক্রবার ১৭ জুলাই সাজানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে মানবিক বন্ধু ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ও মো: আব্দুর রহীম -এ সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা ও সংবর্ধনা সভা ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সাবেক উপমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান , পরিচালক আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা ইনস্টিটিউট, অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম উপদেষ্টা মানবিক বন্ধু ফাউন্ডেশন ।
। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ড. কে.এম. বদরুল হক শাহীন, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার রফিকুল ইসলাম, যশোরের জেলা রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ আবু তালেব, গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মঞ্জুরুল মোর্শেদ এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন করলেই চলবে না, তাদেরকে মানবিক, নৈতিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় সমৃদ্ধ হতে হবে। আর এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিক্ষক শুধু পাঠদান করেন না, তিনি একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, আদর্শ ও ভবিষ্যৎ গঠনের কারিগর।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মেধাবী ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া। বই, খাতা, কলমসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী পেয়ে অনেক শিক্ষার্থীর মুখে ফুটে ওঠে আনন্দের হাসি। তাদের অনেকেই জানান, এই সহযোগিতা তাদের পড়াশোনায় আরও উৎসাহ যোগাবে এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন পূরণে অনুপ্রাণিত করবে।
একই সঙ্গে শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য একজন শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষককে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। সমাজে শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি এবং তাদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার এ উদ্যোগ উপস্থিত সকলের প্রশংসা কুড়ায়। বক্তারা বলেন, শিক্ষককে সম্মানিত করা মানে শিক্ষা ব্যবস্থাকে সম্মানিত করা, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সমাজের বিশিষ্টজনেরা অংশ নেন। তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় শিক্ষার উন্নয়ন ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক মিলনমেলায়।
গোপালপুরের এই আয়োজন প্রমাণ করে, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ একসঙ্গে এগিয়ে এলে শিক্ষার আলো আরও বিস্তৃত হতে পারে। মেধাবী ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো এবং শিক্ষকদের সম্মানিত করার মতো উদ্যোগই একটি আলোকিত, জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনের পথকে আরও সুগম করবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব নুরুল হক নয়ন
✆ ০৯৬৩৮-৯০৭৬৩৬। ই মেইল: thedailydrishyapat@gmail.com
।
Copyright 2025 Pratidinerdrishyapat