
রমজান মাস এলেই রোজা সংক্রান্ত নানা মাসআলা ও প্রশ্ন সামনে আসে। দৈনন্দিন জীবনে হঠাৎ অসুস্থতা, বমি, মাথা ঘোরা কিংবা শারীরিক দুর্বলতার মতো বিষয়গুলো অনেক সময় রোজাদারকে দুশ্চিন্তায় ফেলে দেয় যে, রোজা ভেঙে গেল কি না, কাজা করতে হবে কি না—এসব নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা ভুল ধারণাও প্রচলিত রয়েছে। বিশেষ করে রোজা অবস্থায় মুখ ভরে বমি হলে রোজা থাকে নাকি ভেঙে যায়—এ প্রশ্নটি প্রায়ই শোনা যায়।
ইসলামি শরিয়তে রোজা ভঙ্গ হওয়ার নির্দিষ্ট কিছু কারণ রয়েছে, আর সবকিছুই যে রোজা ভেঙে দেয়, তা নয়। অনেক ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো কিছু ঘটলে শরিয়ত তা ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখেছে এবং রোজা সহিহ থাকার বিধান দিয়েছে। এ বিষয়ে হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর স্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে, যা থেকে উলামায়ে কেরাম বিস্তারিত মাসআলা বর্ণনা করেছেন।
তাই রোজার বিধান সঠিকভাবে জানতে হলে কোরআন-সুন্নাহ ও ফিকহের আলোকে বিষয়গুলো বোঝা জরুরি। রোজা অবস্থায় বমি হলে কখন রোজা ভাঙবে আর কখন ভাঙবে না—এ বিষয়ে হাদিসের আলোকে সঠিক বিধান নিচে তুলে ধরা হলো।
ইসলামিক স্কলাররা বলছেন, ‘রোজা অবস্থায় মুখ ভরে বমি হলে রোজা ভেঙে যাবে এবং তার কাজা করতে হবে’—এ ধারণা ঠিক নয়। বরং অনিচ্ছাকৃত মুখ ভরে বমি হলেও রোজা ভাঙবে না, কাজাও আদায় করতে হবে না। হ্যাঁ, কেউ যদি রোজা অবস্থায় ইচ্ছাকৃত মুখ ভরে বমি করে, তবে তার রোজা ভেঙে যাবে এবং কাজা আদায় করতে হবে।
হাদিসে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যার অনিচ্ছাকৃত বমি হয়ে যায় তাকে কাজা আদায় করতে হবে না (অর্থাৎ তার রোজা ভাঙবে না)। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত বমি করে সে যেন কাজা আদায় করে (অর্থাৎ তার রোজা ভেঙে যাবে)। (তিরমিজি : ৭২০, সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৬৭৬, মুসতাদরাকে হাকেম : ১৫৫৭)
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব নুরুল হক নয়ন
✆ ০৯৬৩৮-৯০৭৬৩৬। ই মেইল: thedailydrishyapat@gmail.com
।
Copyright 2025 Pratidinerdrishyapat