সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে দুই বিএনপি কর্মী হত্যার মূল হোতাসহ তিনজনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এরা হলেন, রায়গঞ্জ উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামের মৃত নজর উদ্দিনের ছেলে আছমত আলী, একই গ্রামের তরিকুল ও আশরাফ আলী।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে রায়গঞ্জ থানার ওসি মো. গোলাম কিবরিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বিএনপির দুই কর্মী হত্যার ঘটনার মূল হোতা আছমত আলী ও তার দুই সহযোগীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তারা পুলিশী পাহাড়ায় সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। মঙ্গলবার বেলা ১১টা পর্যন্তও এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়নি।
ওসি গোলাম কিবরিয়া জানান, গোয়ালপাড়া গ্রামের ৫ বিঘা আয়তনের খাস পুকুর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ সমর্থক আছমত আলী ও ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কার সিদ্দিকের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। আছমত আলী বিগত ১৫/১৬ বছর ধরে গোয়ালপাড়া মসজিদের নামে লিজ নিয়ে পুকুরটি চাষাবাদ করে আসছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর বিএনপি নেতা আবু বক্কর সিদ্দিক ৩ বছরের জন্য পুকুরটি লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছিলেন। সোমবার সকালে আবু বকর সিদ্দিক তার লোকজন নিয়ে মাছ ধরার জন্য পুকুরে জাল ফেললে আছমত আলীর লোকজন এসে বাঁধা দেয়। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
এ সময় হাসুয়া, দা, লাঠিসোটা নিয়ে উভয়পক্ষ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ৪ জন ও বিএনপি সমর্থিত ৭ জন গুরুতর আহত হন।
৯৯৯ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবু বক্কার সিদ্দিক গ্রুপের ইসমাইল (৭০) ও আব্দুস সালাম (৬০) মারা যান।
