প্রিন্ট এর তারিখঃ ডিসেম্বর ১, ২০২৫, ১২:২৮ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ৭, ২০২৫, ১০:৩১ পি.এম

দৃশ্যপট কৃষি ডেস্ক:
গত বোরো মৌসুমে ধানে ভালো দাম পেয়ে নতুন আশার আলো দেখেছিলেন সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার কৃষকরা। সেই সফলতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এবার আরও বেশি উদ্যমে রোপা আমন ধানের চাষ করেছেন তারা। উপজেলার ১৯ হাজার ১৩৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হওয়ায় মাঠজুড়ে এখন দুলছে সবুজের সমারোহ, মুখে ফুটেছে কৃষকদের স্বস্তির হাসি।
সরেজমিনে সোনাখাড়া, ধামাইনগর, নলকা ও চান্দাইকোনা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে - বাতাসে দোল খাচ্ছে তাজা আমন চারা। কৃষকরা জানাচ্ছেন, এ বছর আবহাওয়া ও জমির অবস্থা চাষাবাদের জন্য অনুকূল থাকায় গত বছরের তুলনায় বেশি জমিতে ধান রোপণ সম্ভব হয়েছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ১৯ হাজার ২৩০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১৯ হাজার ১৩৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষ সম্পন্ন হয়েছে - যা প্রায় শতভাগ সাফল্যের ইঙ্গিত দেয়।
এ বছর কৃষকরা বেশি চাষ করেছেন ব্রি ধান–৭৫, ৮৭, ৯৪, ৫১, ৫২, ৯০ ও ১০৩ জাতের ধান। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রিয় জাত কাটারিভোগ, স্বর্ণা, বিনা ধান–১৭, ৩৪, ৭ এবং সুগন্ধি চিনি আতপ, গোল্ডেন আতপ ও কালো চিনি গুঁড়া জাতের ধানও রোপণ হয়েছে। এর মধ্যে চিনি আতপ জাতের ধান বাজারে সবসময়ই উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়। ইতোমধ্যে কিছু কিছু স্থানে ধান চাউল আসা শুরু করেছে।
জামতৈল গ্রামের কৃষক শামীম হোসেন জানান, অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে কিছুটা আশঙ্কা থাকলেও এখন পর্যন্ত ফলনের অবস্থা ভালো।
সোনাখাড়া ইউনিয়নের ধলজান গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, ধানের পাশাপাশি আমি প্রায় ৩৩ শতাংশ জমিতে সবজি চাষ করেছি। দামও ভালো, আশা করছি ফলনও আশানুরূপ হবে।
ধামাইনগর ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের কৃষক জামাল উদ্দিন বলেন, এক একর জমিতে বিনা–৪৯ জাতের ধান চাষ করেছি। ফলন ভালো হলে পরবর্তী মৌসুমে একই জমিতে আলু চাষের পরিকল্পনা আছে।
নলকা ইউনিয়নের সুজাপুর গ্রামের কৃষক রেজাউল করিম বলেন, বিনা–১৭ জাতের ধান কাটার পর রবিশস্য হিসেবে লাউ, শিম, ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছি।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীমুল হাসান বলেন, এবার ধানের রোগবালাই তুলনামূলক কম। সার ও কীটনাশকের ঘাটতি ছিল না। আগাম ব্যবস্থা নেওয়ায় বাদামি গাছফড়িংসহ পোকার আক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। কৃষকরা নিয়মিত ‘খামারি অ্যাপস’ ব্যবহার করলে চাষাবাদে আরও উন্নতি হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মমিনুল ইসলাম জানান, রায়গঞ্জের ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় আমন চাষ প্রায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী হয়েছে। কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে উঠোন বৈঠক, প্রশিক্ষণ, প্রণোদনা, লিফলেট বিতরণ ও কৃষি প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে রোগবালাই কমেছে, চাষে আগ্রহও বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না ঘটলে এবার রায়গঞ্জে আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।