রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা এলাকায় প্রকাশ্যে এক যুবককে অপহরণ করে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রেখে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে রায়গঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বাদী উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের বাঐখোলা গ্রামের মো. শাহজাহান সেখ। এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুন বিকেল ৫টার দিকে তার নাতনি হামিয়া খাতুন (১৭) ও ছেলে ইয়াছিন আরাফাত (১৯) চান্দাইকোনা পাবনা বাজারের হাইস্কুল রোড এলাকার একটি দোকান থেকে এসএসসি পরীক্ষার ব্যবহারিক খাতা আনতে যান। এ সময় অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের ঘিরে ধরে এবং তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়।
অভিযোগে বলা হয়, একপর্যায়ে কয়েকজন অভিযুক্ত হামিয়া খাতুনকে ঘটনাস্থলে অবরুদ্ধ করে রাখে।
অন্যদিকে কাব্য খান ও ছাহিল সেখসহ কয়েকজন ইয়াছিন আরাফাতকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে চান্দাইকোনা শ্মশানঘাট এলাকার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রেখে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
মুক্তিপণের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা ইয়াছিন আরাফাতকে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। পরে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি টের পেয়ে অভিযুক্তরা তাকে ছেড়ে দেয়।
ঘটনার পর আহত ইয়াছিন আরাফাতকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা করানো হয়।মামলায় কাব্য খান (১৯), ছাহিল সেখ (১৯), লাবিব (১৯) ও নীরব (১৯)-কে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া
অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মামলায় মো. আরিফুল ইসলাম, মো. আইয়ুব আলী সেখ ও মো. হাফিজুর রহমানসহ একাধিক ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার (৩ মে) বাদী তার এজাহারে উল্লেখ করেন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা এবং অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে আপসের আশ্বাস পাওয়ায় মামলা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসানুজ্জামান বলেন, “ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) সাইফুল ইসলাম খান বলেন,“কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রম নিয়ে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আমরাও কিশোর অপরাধে জড়িত গ্যাং এবং তাদের অপরাধ সংঘটিত হওয়ার স্থানগুলো সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। এ অবস্থায় গত ২ জুন সংঘটিত অপহরণ ও চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অপরাধের তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিলম্ব না করে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। কিশোর অপরাধ দমনে পুলিশ বদ্ধপরিকর। আজ থেকে গ্যাং দমনে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে জনসাধারণের সহযোগিতা আমাদের কার্যক্রমকে আরও ফলপ্রসূ ও সফল করবে।”
তিনি আরো বলেন,‘অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদক নির্মূল এবং আদালতের পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। রায়গঞ্জ সার্কেলের আওতাধীন এলাকায় কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক, সন্ত্রাস ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে।’
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব নুরুল হক নয়ন
✆ ০৯৬৩৮-৯০৭৬৩৬। ই মেইল: thedailydrishyapat@gmail.com
।
Copyright 2025 Pratidinerdrishyapat