
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
জুলাই বিপ্লবে পুড়িয়ে দেওয়ার পর বিধ্বস্ত সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার আওয়ামী লীগ কার্যালয়টি ময়লার ভাগাড় ও পাবলিক টয়লেটে পরিণত হয়েছিল। বিধ্বস্ত ওই কার্যালয়টি নিজ উদ্যোগে সংরক্ষণ করলেন রফিকুল ইসলাম নামে দলের একজন সমর্থক।
মঙ্গলবার রাতে উপজেলার ধানগড়া বাজারে অবস্থিত কার্যালয়টির চারদিকে বাঁশের বেড়া দিয়ে সংরক্ষণ করেন তিনি। রফিকুল ইসলাম রায়গঞ্জ পৌরসভার প্রামাণিক পাড়া এলাকার ময়নাল প্রামাণিকের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ট্রাকচালক। তিনি আওয়ামী লীগের কোন পদধারী নেতা নন। সাধারণ একজন সমর্থক বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
বুধবার( ৪ মার্চ) সকালে রায়গঞ্জ পৌরসভার ধানগড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে বাঁশের তৈরি অস্থায়ী বেড়া দেখা যায়। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ২০২৪ সালের ৪ আগষ্ট সরকার পতনের ছাত্র জনতার আন্দোলন চলাকালে আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভাঙচুর ও আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পরদিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা বিধ্বস্ত এই কার্যালয়টিকে ‘পাবলিক টয়লেট’ হিসেবে ঘোষণা দেন। এরপর অনেকেই সেটিকে প্রসাব-পায়খানা ও ময়লা আবর্জনা ফেলার জন্য ব্যবহার করছেন।
বিষয়টি দেখে এলাকার আওয়ামী লীগ সমর্থক রফিকুল ইসলাম আবেগতাড়িত হন। এরপর তিনি নিজেই উদ্যোগ নিয়ে বাঁশের বেড়া দিয়ে সংরক্ষণ করেন।
রফিকুল ইসলাম বলেন, দলের কোন পদে না থাকলেও তিনি ছোটবেলা থেকে আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে মানুষ প্রকাশ্যে প্রসাব-পায়খানা করায় তার কষ্ট হতো। এজন্য নিজের টাকায় বাঁশ কিনে, তা দিয়ে পুতে দিয়ে বেড়া তৈরি করে জায়গাটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে এ স্থানে ফুলগাছ লাগানো সহ আরও উন্নয়নমূলক কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী ইশরাত জাহান এশা বলেন, এ বিষয়ে গত রাতে আমি শুনেছি। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের অফিস খুলতেছে। তবে আমি এটার পক্ষে নাই।
রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম কিবরিয়া জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। তবে কেউ অভিযোগ করলে খতিয়ে দেখবো।