রায়গঞ্জ ( সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
পবিত্র ঈদুল আজাহকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে গরু চুরি রোধে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। চোরদের যাতায়াত ও পিকআপ ভ্যান ঠেকিয়ে দিতে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও গ্রামের সংযোগ সড়কগুলোতে বাঁশ বেঁধে ব্যারিয়ার তৈরি করা হয়েছে। আরে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসানুজ্জামান নিজে।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, সন্ধ্যার পর থেকে গ্রামের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার মোড়ে মোড়ে বাঁশ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে স্থানীয় তরুণ ও কৃষকরা দলে বিভক্ত হয়ে রাত জেগে লাঠি ও টর্চ হাতে পাহারা দিচ্ছেন। বিশেষ করে ধানগড়া, চান্দাইকোনা,ব্রহ্মগাছা,ধামাই নগর ও সংলগ্ন ইউনিয়নগুলোর গ্রামগুলোতে এ তৎপরতা বেশি দেখা যাচ্ছে।
বাঐখোলা গ্রামের খামারী আব্দুর রাকিব খান বলেন, অনেক কষ্ট করে তিলে তিলে একেকটি গরু বড় করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি সংঘবদ্ধ চোর চক্র ট্রাক বা পিকআপ নিয়ে গ্রামে ঢুকে মুহূর্তের মধ্যে গোয়াল ঘর ফাঁকা করে দেয়। শালিয়া গাড়ি গ্রামের আব্দুর রশিদ বলেন, ওসির নির্দেশে গরু চুরি রোধে শালিয়া গাড়ি বাজারেও একটি বাঁশ কল স্থাপন করা হয়েছে। পুলিশি টহলের পাশাপাশি গ্রামবাসী নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ দিয়ে রাস্তা আটকে পাহারার ব্যবস্থা করেছেন যাতে অপরিচিত কোনো গাড়ি গ্রামে ঢুকতে গেলেই বাধার মুখে পড়ে। সদর উপজেলার বাগবাটি গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস বলেন , চুরি রোধে ব্রহ্মগাছা বাজারের প্রবেশপথে একটি বাঁশ কল বসানো হয়েছে। এরপর থেকে এই এলাকায় কোন গরু চুরি হয়নি।
চান্দাইকোনা ইউনিয়ন বিএনপি'র সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সামা সরকার বলেন, আমার গ্রাম রুদ্রপুরে প্রবেশপথে শক্ত বাঁশ দিয়ে গেটের মতো তৈরি করা হয়েছে। রাত ১০টার পর থেকে ভোররাত পর্যন্ত খামারিরা পালাক্রমে পাহারা দিচ্ছেন। চোর বা সন্দেহভাজন কাউকে দেখা মাত্রই এলাকাবাসীকে সজাগ করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অবশ্য এই কাজে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের পুলিশ বিট অফিসার ও গ্রাম পুলিশ সদস্য সহযোগিতা করছেন।
চান্দাইকোনা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ হাবিবুর রহমান খান বলেন,জনবলের সীমাবদ্ধতার কারণে পুলিশের একার পক্ষে প্রতিটি গ্রামের অলিগলি পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়। খামারিদের এই ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা চুরি রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে আইন নিজের হাতে না তুলে সন্দেহভাজন কাউকে আটক করলে দ্রুত পুলিশকে হস্তান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের এ ধরনের উদ্যোগকে তিনি অভিনন্দন জানিয়েছেন।
রায়গঞ্জ উপজেলা সদর ধানগড়া মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক শিশির কুমার বলেন,এই 'বাঁশ ব্যারিয়ার ' ব্যবস্থা এবং রাত্রিকালীন পাহারার ফলে চুরির প্রকোপ কমবে বলে তারা আশা করছেন। তবে এর পাশাপাশি পুলিশি টহল আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
এ ব্যাপারে রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান বলেন, ঈদ কে সামনে রেখে না,উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে গত দুই মাস পূর্বে বাঁশ ব্যারিয়ার বসানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের পুলিশের বিট অফিসার গ্রাম পুলিশ এবং গ্রামের খামারীরা এই কাজে সহযোগিতা করছেন। তিনি আশা করেন এর ফলে উপজেলায় আর কোন গরু চুরি হবে না। সাধারণ মানুষ এবং খামারিরা নিরাপদে তারা গরু লালন পালন করতে পারবেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব নুরুল হক নয়ন
✆ ০৯৬৩৮-৯০৭৬৩৬। ই মেইল: thedailydrishyapat@gmail.com
।
Copyright 2025 Pratidinerdrishyapat