রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঘুড়কা ইউনিয়নের শ্যামনাই থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়কের দীর্ঘদিনের বেহাল অবস্থার কারণে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছিলেন। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কজুড়ে সৃষ্টি হতো বড় বড় গর্ত, কাদা ও জলাবদ্ধতা। ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ সাধারণ মানুষের চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়রা সড়কটির সংস্কারের দাবি জানিয়ে এলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
সম্প্রতি স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমে সড়কটির দুরবস্থার চিত্র প্রকাশিত হলে বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সাব্বিরের নজরে আসে। সংবাদ প্রকাশের পরপরই তিনি এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তার উদ্যোগে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ইটের আদলা, খোয়া ও রাবিশ ফেলে চলাচলের উপযোগী করার কাজ শুরু করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শ্যামনাই-দুর্গাপুর সড়কটি এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার, সরকারি-বেসরকারি অফিস ও কৃষি জমিতে যাতায়াত করেন।
কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে সাধারণ মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “বৃষ্টির সময় এই সড়ক দিয়ে হাঁটা পর্যন্ত কঠিন হয়ে যেত। মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হতো।
সংবাদ প্রকাশের পর ইঞ্জিনিয়ার সাব্বির দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আমরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি। এখন অন্তত জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত করা সম্ভব হচ্ছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল প্রায় ৮ হাজারেরও বেশি মানুষ। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষিপণ্য পরিবহনকারী কৃষক, ব্যবসায়ী ও কর্মজীবী মানুষের জন্য সড়কটির গুরুত্ব অপরিসীম। সড়কের দুরবস্থার কারণে শিক্ষা, কৃষি ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও ব্যাহত হচ্ছিল।
এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সাব্বির বলেন, “আমি সংবাদে সড়কটির দুরবস্থার কথা জানতে পেরে দ্রুত স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলি। মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ইটের আদলা ও রাবিশ ফেলার ব্যবস্থা করেছি। এটি স্থায়ী সমাধান নয়, তবে আপাতত মানুষের চলাচল সহজ হবে বলে আশা করছি।”
তিনি আরও বলেন, “সড়কটির স্থায়ী উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে। আমি চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি পাকাকরণ বা পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের আওতায় আসুক, যাতে এলাকাবাসী দীর্ঘমেয়াদে সুফল ভোগ করতে পারেন।”
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, সাময়িক সংস্কারের পাশাপাশি দ্রুত স্থায়ী উন্নয়ন কাজ শুরু করা প্রয়োজন। তারা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং বহুদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটাবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব নুরুল হক নয়ন
✆ ০৯৬৩৮-৯০৭৬৩৬। ই মেইল: thedailydrishyapat@gmail.com
।
Copyright 2025 Pratidinerdrishyapat