মেহেদী হাসান রিপন,যশোরঃ
দুই সপ্তাহ আগেও যে কাঁচা মরিচ কিনতে গিয়ে ক্রেতার চোখে পানি চলে আসছিল, সেই মরিচই এখন ধরাছোঁয়ার মধ্যে। ভারত থেকে টানা আমদানির কারণে শার্শা-বেনাপোলসহ যশোরের সব বাজারে কাঁচা মরিচের দামে বড় ধস নেমেছে। কেজিতে কমেছে ২০০ টাকা পর্যন্ত।
সোমবার বেনাপোল, নাভারন ও বাগআঁচড়া বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১২০ টাকায়। অথচ আগস্টের শুরুতেই এর দাম ৩০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।
বেনাপোল বন্দর দিয়ে ৩ আগস্ট থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত মাত্র ১০ কার্যদিবসে ভারত থেকে এসেছে ২৩৩ টন কাঁচা মরিচ। সবচেয়ে বেশি এসেছে ১ আগস্ট, একদিনেই ৫৬ টন। বন্দর সূত্র বলছে, পেট্রাপোলে আরও কয়েক ট্রাক মরিচ ঢোকার অপেক্ষায় আছে। সেগুলো ঢুকলে সরবরাহ আরও বাড়বে।
বেনাপোল উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-সহকারী কর্মকর্তা শ্যামল কুমার নাথ বলেন, "প্রতিদিনই মরিচের চালান আসছে। সরবরাহ বাড়ায় দামও নিম্নমুখী।"
বেনাপোল বাজারের মরিচ বিক্রেতা রাশেদ আলী জানান, আমদানি চালু থাকায় এখন আর মরিচের জন্য হাহাকার নেই। বন্যায় দেশের কিছু এলাকার ফসল নষ্ট হলেও অন্যান্য জেলা থেকে মাল আসায় বাজার স্থিতিশীল।
একজন ক্রেতা বলেন, "১৫ দিন আগে ৫০ গ্রাম মরিচ কিনতেও ভাবতে হতো। এখন ২০০ টাকা কমে যাওয়ায় নিশ্বাস ফেলে বাজার করতে পারছি।"
একজন আমদানিকারক বলেন, বর্তমান গতি ধরে রাখলে কাঁচা মরিচের দাম ৫০ টাকায় নেমে যেতে পারে। তবে তখন আমদানি করে লাভ থাকবে না।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মরিচের মতো পচনশীল পণ্যের দাম এভাবে ওঠানামা ঠেকাতে সরকারি হিমাগার ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা জরুরি। পাশাপাশি দেশের উৎপাদন বাড়াতে পারলে আমদানির ওপর চাপ কমবে।আপাতত বেনাপোল দিয়ে মরিচ আসায় সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে ফিরেছে স্বস্তি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব নুরুল হক নয়ন
✆ ০৯৬৩৮-৯০৭৬৩৬। ই মেইল: thedailydrishyapat@gmail.com
।
Copyright 2025 Pratidinerdrishyapat