নোয়াখালীর চাটখিলে ৩ সন্তানকে ফেলে রেখে এক পাঞ্জেগানা মসজিদের ইমামের সঙ্গে পালিয়ে গেছেন প্রবাসীর স্ত্রী। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওই গৃহবধূর মা মোসা. নাজমা আক্তার নিজেই বাদী হয়ে চাটখিল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) রাতে অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ। এর আগে ২৭ জুন চাটখিল উপজেলার হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের উত্তর নারায়ণপুর গ্রামের সেকান্দর মাস্টার পাটোয়ারী বাড়িতে এ ঘটনাটি ঘটে।
পালিয়ে যাওয়া গৃহবধূ নিশাত আক্তার (৩০) উত্তর নারায়ণপুর গ্রামের মো. আবু ইউসুফের মেয়ে। এছাড়া অভিযুক্ত মসজিদের ইমাম মো. রিয়াজ হোসেন (২৬) লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানাধীন ৯নং করপাড়া ইউনিয়নের করপাড়া গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নিশাত আক্তারের স্বামী একজন কানাডা প্রবাসী। স্বামী বিদেশে থাকার সুবাদে তিনি ৩ সন্তানসহ দীর্ঘদিন ধরে বাবার বাড়িতেই বসবাস করে আসছিলেন। বাবার বাড়িতে থাকাকালীন চাটখিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের একটি মসজিদের ইমাম মো. রিয়াজের সঙ্গে নিশাতের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
অভিযোগে বলা হয়, পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে গত ২৭ জুন দুপুরে রিয়াজ ও নিশাত কৌশলে ঘর থেকে পালিয়ে যান। পালিয়ে যাওয়ার সময় নিশাত তার ৩ সন্তানকে নিশাতের বাবার বাড়িতে রেখে গেছেন।
নিশাতের মা অভিযোগে দাবি করেন, পালিয়ে যাওয়ার সময় নিশাত ঘর থেকে নগদ ৯ লাখ ১০ হাজার টাকা, ০৬টি স্বর্ণের আংটি, ০৫টি চেইন, ০২টি ব্রেসলেট এবং ১৪ জোড়া কানের দুলসহ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার নিয়েছেন। এর আগেও স্বামীর বাড়ির কথা বলে নিশাত ঘর থেকে টিভি, হাঁড়ি-পাতিল, বিদেশি কম্বল, ফ্রিজে থাকা মাছ-মাংস এবং তার নিজের ব্যবহৃত দুই লাখ টাকা মূল্যের একটি স্কুটিসহ যাবতীয় মালামাল নিয়ে যায়।
মেয়ের নিখোঁজের পর শয়নকক্ষে তল্লাশি চালিয়ে রিয়াজ ও নিশাতের বিবাহের একটি যৌথ হলফনামা ও এফিডেভিট দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।
নোয়াখালীর নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া ওই হলফনামা সূত্রে জানা যায়, তারা গত ০৪ মে পূর্বের কাবিননামা বাতিল করে পুনরায় নতুন কাবিননামা নির্ধারণপূর্বক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে। বিয়ের পরও নিশাত পরিকল্পিতভাবে বাবার বাড়িতে অবস্থান করে সুযোগ বুঝে এই অর্থ ও সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, ঘটনাটি নিয়ে মেয়ের মা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। আমরা অভিযোগটি আমলে নিয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করার জন্য ইতোমধ্যে একজন অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী ও অভিযুক্ত ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করাসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।
ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাদের কোনো সন্ধান পায়নি পরিবার। অভিযোগে ইমাম মো. রিয়াজ হোসেন, প্রবাসীর স্ত্রী নিশাত আক্তার এবং রিয়াজের পিতা খোরশেদ আলম ও মা কুলসুম আক্তারসহ ৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব নুরুল হক নয়ন
✆ ০৯৬৩৮-৯০৭৬৩৬। ই মেইল: thedailydrishyapat@gmail.com
।
Copyright 2025 Pratidinerdrishyapat