নিজস্ব প্রতিনিধি
খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তদারকিমূলক অভিযানে ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) খুলনা বিভাগীয় ও বিভিন্ন জেলা কার্যালয়ের ৯টি টিম এসব অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, চাল, ভোজ্যতেল, গ্যাস, ওষুধ, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আলু, দেশি পেঁয়াজ, সবজি, মুরগি ও ডিমের বাজারদর এবং ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার যাচাই করা হয়। এ সময় ব্যবসায়ীদের সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি এবং মূল্য তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
খুলনা মহানগরীর সদর থানার ফেরিঘাট মোড় এলাকায় বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে যথাযথ পণ্য সরবরাহ না করার অপরাধে ‘রঙের বাহার’কে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
একই এলাকায় সহকারী পরিচালক দিনারা জামানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনের অপরাধে ‘ফারুক ভাইয়ের শাহী চাপ’কে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার বাইনতলা বাজারে সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিবের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে যথাযথ পণ্য সরবরাহ না করায় মেসার্স বাবুল স্নড ব্রাদার্সকে ১২ হাজার টাকা, মেসার্স আরিফ মেডিকেল হলকে ৪ হাজার টাকা এবং বিকাশ পুস্তকালয় এন্ড কসমেটিকসকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ অভিযানে তিন প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ বাজারে সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে যথাযথ পণ্য সরবরাহ না করার অপরাধে আসমা স্টোরকে ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সুলতানপুর বড় বাজারে সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান তানভীরের নেতৃত্বে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় মনি বিফ হাউজকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং নাজমুল এন্টারপ্রাইজকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কলেজ গেট এলাকায় সহকারী পরিচালক মো. মাসুম আলীর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় স্টুডেন্ট প্লাস কম্পিউটারকে ২ হাজার টাকা, তানিন কম্পিউটারকে ২ হাজার টাকা, ফ্রেন্ডেস কম্পিউটারকে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং তনিমা কম্পিউটারকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। চার প্রতিষ্ঠানকে মোট ৮ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মিঠাপুর বাজারে সহকারী পরিচালক শামীম হাসানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রয়ের অপরাধে নারায়ণ ফার্মেসিকে ১ হাজার টাকা এবং মেসার্স অসীম স্টোরকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নগর বাথান এলাকায় সহকারী পরিচালক নিশাত মেহেরের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রয়ের অপরাধে মা এন্টারপ্রাইজকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর ও পিয়ারাবাগান বাজার এলাকায় সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে সেবাগ্রহীতার জীবনবিপন্নকারী কার্য করার অপরাধে মালেক গ্যাস হাউজকে ২০ হাজার টাকা, মিথ্যা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ক্রেতা সাধারণকে প্রতারিত করার অপরাধে খন্দকার ফার্মেসিকে ২৫ হাজার টাকা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রয়ের অপরাধে দি কেক হাউজকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তিন প্রতিষ্ঠানকে মোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানায়, অভিযানের সময় ব্যবসায়ীদের সচেতন করার পাশাপাশি মূল্য তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার সংরক্ষণ এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব নুরুল হক নয়ন
✆ ০৯৬৩৮-৯০৭৬৩৬। ই মেইল: thedailydrishyapat@gmail.com
।
Copyright 2025 Pratidinerdrishyapat