শাহ আলী জয়, উল্লাপাড়া( সিরাজগঞ্জ) :
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গায় এক এতিম অসহায় মেয়ের জীবনে সুখের পরশ বয়ে আনলেন মানবতার ফেরিওয়ালা
সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস। বাবা-মা হারানো খুশি খাতুনকে রাজকীয় আয়োজনে বিয়ে দিয়ে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন সে।
উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা থানার বনবাড়িয়া গ্রামের সন্তান খুশি। নাম খুশি হলেও বাস্তবে আসলে অখুশি ছিলেন। খুশির মা মারা যায় ২০১৭ সালে। বাবাও দুনিয়া থেকে চলে যায় ২০২২ সালে। নেই কোন ভাই। মা,বাবাকে হারিয়ে খুশি অসহায় হয়ে পড়ে। পরে তার ঠাঁই হয় বৃদ্ধ দাদা -দাদীর কাছে ।
খুশির জীবনের শুরুটা ছিল সংগ্রাম আর অভাবের সঙ্গে যুদ্ধ করে যাওয়ার। আস্তে আস্তে বড় হয়ে উঠে খুশি খাতুন। বিয়ের বয়স হয়ে যায়। দুশ্চিন্তা পরেন বৃদ্ধ দাদা-দাদী। বিয়ে ঠিক হয় কিন্ত টাকার অভাবে কোন ব্যবস্থা হয়না।
খুশি খাতুনের এক আত্মীয়র মাধ্যমে এমন অবস্থা জানতে পেরে তার দাদা-দাদী ও পরিবারের সাথে এ ব্যাপারে কথা বলে বিস্তারিত উল্লেখ করে মামুন বিশ্বাস তার নিজের ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন।
পোস্টটি ভাইরাল হলে দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য মানুষ সাড়া দেন। সেটি দেখে ১ লক্ষ ৯৬ হাজার টাকা সহযোগিতা পড়ে। সেই অর্থ দিয়েই উপজেলার সলঙ্গা থানার বনবাড়িয়া গ্রামে রাজকীয় ভাবে ধুমধাম করে বিয়ের আয়োজন করা হয় খুশির । যৌতুক বিহিন বিয়ে হয় খুশির । বিয়েতে কোন কিছুর কমতি ছিলো না। খাওয়া-দাওয়া থেকে বরের ঘরের আশবাবপত্র।
বিয়ে উপলক্ষ্যে সলঙ্গার প্রিয়মুখি বিউটি পার্লার থেকে মেকআপ আর্টিস্ট এনে জাঁকজমকভাবে সাজানো হয় খুশিকে।
বিয়েতে সবজি, মুরগির রোস্ট, গরুর গোশত ও দই দিয়ে শতাধিক মানুষকে আপ্যায়ন করা হয়। খুশির জন্য কেনা হয় বিয়ের সোনা ও রুপার গহনা, শাড়ি, হলুদের কাপড়, জুতা ও কসমেটিক্সসহ বিয়ের বিভিন্ন ব্যবহারের সামগ্রী। সেই সাথে খাট, সুকেস, আলনা, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস রাখার একটি বড় বাক্স ও একটি নতুন সংসার বাঁধতে যা যা প্রয়োজন সবই কিনে দেন মামুন বিশ্বাস ও তার সহযোগীরা।
বিয়ের দিন বুধবার (১৯ নভেম্বর) বিকেলে বর বেশে উপস্থিত হন, তাড়াশ উপজেলার খালকুলা গ্রামের ইসাহাক আলীর ছেলে সিনা বাবু (২২)। বিয়ের সকল কাজ সম্পন্ন হয় রাজকীয় বিয়ের আয়োজনে।
বিয়ের গেইটে জামাই কে করা হয় আপ্পায়ন। এরপর নতুন জামাইকে মোবাইল ফোন হাতে দিয়ে বরণ করেন খুশির নানা ওসমান আলী। অন্যদিকে পাত্রী খুশি খাতুনকে পরিবেষ্টিত করে রাখে প্রতিবেশীরা উল্লাশ ও নানা আয়োজন পুরো বিয়ে ঘিরে এক রাজকীয় পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস বলেন, অন্যান্য সব বিয়ের অনুষ্ঠানের মতো আয়োজন করা হয় এখানে। কোনো কিছুর কমতি ছিল না বিয়েতে। আমাদের এ আয়োজনে এলাকার সবাই খুশি। নতুন দম্পতির জন্য সবাই দোয়া করবেন।
স্থানীয়রা জানান,একটা অসহায় এতিম পরিবারের ভেতরে বিবাহবন্ধন করে তাদের পরিবার সচ্ছল করার জন্য এতো বড় একটা উদ্যোগ ও অনুষ্ঠান জীবনে খুব কম দেখেছি। আমরা গ্রামবাসীও মামুন বিশ্বাসের সাথে সহযোগীতা করেছি। কয়েক বছর যাবৎ উনারা বিভিন্ন রকম উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তারা যেন ভবিষ্যতে এ রকম আরও ভালো কাজ করে যেতে পারেন ও তাদের সফলতা কামনা করছি। এমন আয়োজন করে বিয়ে দেওয়ায় খুশি খাতুনের আত্মীয় স্বজন ও গ্রামের সচেতন মানুষও আনন্দিত।
দাদা-দাদী জানান,এমন রাজকীয় আয়োজনে নাতনির বিয়ে দিতে পেরে দাদা-দাদী খুবই খুশি। সবাই আমার নাতনির জন্য দোয়া করবেন।
বর বাবু বলেন,অসহায় খুশিরকে বিয়ে করতে পেরে আমি খুবই গর্বিত। দাম্পত্য জীবনে সকলের নিকট দোয়া প্রত্যাশা করেন।
কনে খুশি খাতুন , আমি মা-বাবা মারা যাবার পর থেকে দাদা- দাদীর কাছে বড় হয়েছি। আমি কোনোদিন চিন্তাও করি নাই এতো বড় আয়োজনে আমার বিয়ে হবে। যারা বিয়ের জন্য সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব নুরুল হক নয়ন
✆ ০৯৬৩৮-৯০৭৬৩৬। ই মেইল: thedailydrishyapat@gmail.com
।
Copyright 2025 Pratidinerdrishyapat