সলঙ্গা (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
অগ্নিপুরুষ, ভাষাসংগ্রামী ও বর্ষীয়ান রাজনীতিক মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৮৬ সালের এই দিনে ৮৬ বছর বয়সে ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ ১৯০০ সালের ২৭ নভেম্বর সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার তারুটিয়া গ্রামে এক পীর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা শাহ সৈয়দ আবু ইসহাক এবং মাতা আজিজুন্নেছা। আজীবন সংগ্রামী এই নেতা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
১৯২২ সালের ২৭ জানুয়ারি তাঁর নেতৃত্বে সলঙ্গা হাটে বিলেতি পণ্য বর্জন আন্দোলন সংঘটিত হয়। এ সময় আন্দোলনকারীদের ওপর ব্রিটিশ পুলিশের নির্বিচারে গুলিবর্ষণে বিপুলসংখ্যক মানুষ হতাহত হন। ইতিহাসে ঘটনাটি ‘রক্তাক্ত সলঙ্গা বিদ্রোহ’ নামে পরিচিত।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে পাকিস্তানের আইন পরিষদে তীব্র প্রতিবাদ জানান মাওলানা তর্কবাগীশ। ১৯৫৫ সালের ১২ আগস্ট পাকিস্তানের গণপরিষদে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে তিনিই প্রথম বাংলা ভাষায় বক্তব্য দেন বলে উল্লেখ করা হয়।
১৯৫৬ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। খেলাফত আন্দোলন, কৃষক আন্দোলন, ১৯৪৭ সালের দেশভাগ-পরবর্তী স্বাধিকার আদায়ের আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল।
স্বাধীনতার পর দেশের মাদ্রাসা শিক্ষা পুনর্গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক করার উদ্যোগ নেন। এছাড়া রেডিও ও টেলিভিশনে কোরআন তেলাওয়াতের প্রচলনেও তাঁর ভূমিকা ছিল বলে জানা যায়।
আজীবন সংগ্রামী এই রাজনীতিক ১৯৮৬ সালে ঢাকার পিজি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে সলঙ্গার স্থানীয় বাসিন্দারা মাওলানা তর্কবাগীশের স্মৃতিকে চিরস্থায়ীভাবে সংরক্ষণে সলঙ্গা থানাকে পৌরসভা ও উপজেলা হিসেবে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, এতে তাঁর জন্ম ও সংগ্রামের স্মৃতিবিজড়িত এলাকার মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন প্রজন্ম তাঁর অবদান সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব নুরুল হক নয়ন
✆ ০৯৬৩৮-৯০৭৬৩৬। ই মেইল: thedailydrishyapat@gmail.com
।
Copyright 2025 Pratidinerdrishyapat