মো. আব্দুর রহীম মিঞা,ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ফলদা ইউনিয়নের নিভৃত পল্লী কুমারপাড়ায় মৃৎশিল্পীদের কর্মব্যস্ততা ও তাঁদের অসাধারণ হাতের তৈরি শিল্পকর্ম পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুব হাসান।
১১ অক্টোবর, রবিবার, তিনি কুমারপাড়ায় গিয়ে মৃৎশিল্পীদের মাটির তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী নির্মাণের কাজ ঘুরে দেখেন। এ সময় কারিগরদের নিপুণ হাতের কাজ, শিল্পকর্ম তৈরির প্রক্রিয়া এবং তাঁদের কর্মব্যস্ততা প্রত্যক্ষ করেন।
গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও গ্রামীণ জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কুমার সম্প্রদায়ের কারিগররা মাটি দিয়ে নানা ধরনের ব্যবহার্য সামগ্রী ও শৈল্পিক নিদর্শন তৈরি করে আসছেন। তাঁদের দক্ষতা, শ্রম ও সৃজনশীলতায় মাটির সাধারণ উপকরণ হয়ে ওঠে নান্দনিক শিল্পকর্ম।
ফলদার কুমারপাড়ার এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকর্ম ও কারিগরদের কর্মব্যস্ততা স্থানীয় সংস্কৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের সমৃদ্ধ পরিচয় বহন করে। ভূঞাপুর উপজেলায় ৬ টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা রয়েছে। তার মধ্যে ফলদা ইউনিয়নের ফলদা চড়পাড়া ও পূর্ব পাড়া ব্যতিত অন্য কোথাও কুমারদের হাড়ী-পাতিল তৈরি করতে দেখা যায় না। মাটির দুষ্পাপ্যতা মাটির আসবাবপত্র ব্যবহার কমে আসার কারণে মৎশিল্প প্রায় বিলুপ্ত হওয়ার পথে। আগেকার দিনের মুসমানদের বাড়িতেও মাটির বাসনে (হাংকি) খাবার প্রচলন ছিল। বিষেশ করে সকালে পান্তা ভাত খাবার বাসন হাংকি ব্যবহার হতো বেশি। এ ধরনের শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে কারিগরদের কাজের স্বীকৃতি, তাঁদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
ফলদা কুমার পল্লীতে ঘুরতে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুব হাসান বলেন, “মৃৎশিল্প আমাদের গ্রামবাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফলদার কুমারপাড়ার কারিগরদের নিপুণ হাতের কাজ, সৃজনশীলতা ও পরিশ্রম সত্যিই প্রশংসনীয়। তাঁরা মাটি দিয়ে যে নান্দনিক শিল্পকর্ম তৈরি করছেন, তা আমাদের ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করছে এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির স্বতন্ত্র পরিচয় তুলে ধরছে।
কালের বিবর্তনে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প যেন হারিয়ে না যায়, সে জন্য মৃৎশিল্পীদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন, তাঁদের উৎপাদিত পণ্যের প্রচার-প্রসার এবং নতুন প্রজন্মকে এ শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। মৃৎশিল্পীদের দক্ষতা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে সবাইকে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে। আমি আশা করি, ফলদার কুমারপাড়ার এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প তার নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় রেখে ভবিষ্যতেও এগিয়ে যাবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব নুরুল হক নয়ন
✆ ০৯৬৩৮-৯০৭৬৩৬। ই মেইল: thedailydrishyapat@gmail.com
।
Copyright 2025 Pratidinerdrishyapat