সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি
সাধারণ বাঙালি পরিবারের প্রধান খাদ্য ভাত ও মাছ। মাছ-ভাতে বাঙালি হিসেবে পরিচিত এই সমাজে ভাত ছাড়া একদিন চলাই যেখানে দুষ্কর, সেখানে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে ভাতের একটি দানাও মুখে তোলেনি নাটোরের সিংড়া উপজেলার পারভেজ নামের ৯ম শ্রেণির এক স্কুল শিক্ষার্থী।
পারভেজ উপজেলার ২নং ডাহিয়া ইউনিয়নের বেড়াবাড়ি গ্রামের কৃষক বুদ্দু মোল্লার ছেলে এবং বিয়াশ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্র।
ভাত না খেলেও পুরোপুরি সুস্থ-সবল ও চঞ্চল স্বভাবের পারভেজ প্রতিদিন নিয়ম করে স্কুলে যাচ্ছে, বাবার সাথে সংসারের কাজে সহযোগিতা করছে স্বাভাবিক অন্য ছেলের মতোই।
পারভেজের পরিবার সূত্রে জানা যায়, জন্মের পর মায়ের বুকের দুধ ছাড়া অন্য কোনো খাবারে তার তেমন রুচি ছিল না। সাধারণত শিশুরা ৬-৭ মাস বয়স থেকে ভাত বা খিচুড়িতে অভ্যস্ত হয়ে উঠলেও পারভেজ তা করেনি। বয়স যখন ১ বছর, তখন থেকেই ভাতের প্রতি তার তীব্র অনীহা তৈরি হয়। জোর করে মুখে ভাত দিলে সে বমি করে দিত। বিষয়টি বেশি পরিস্কার হয় তার ‘ভাত খাওয়ার’ অনুষ্ঠানে।
পারভেজের মা পারুল বেগম জানান, ”শুরুর দিকে আমরা খুব চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। জোর করে খাওয়াতে গেলে ও কেঁদে বুক ভাসাতো, বমি করতো। ডাক্তার, কবিরাজ দেখিয়েছি কোনো লাভ হয়নি। এক পর্যায়ে আমরাও হাল ছেড়ে দিয়েছি । এখন সে ভাতের গন্ধ কোন ভাবেই সহ্য করতে পারে না।” আমাদের আরো দুটো সন্তান আছে তারা স্বাভাবিক খাবার খায়।
বাবা বুদ্দু মোল্লা জানান, আমরা যখন ভাত খাই তখন সে মুড়ি, কখনো সবজি, সুজি, আবার কখনো ফলমুল ,ও দুধ খেয়ে ক্ষুদা নিবারন করে । আমাদের সাথে ভাত খেতে বসে না। সকালে মুড়ি, দুপুরে সবজি দিয়ে রুটি খায়। রাতের বেলায় মুড়ি খেয়ে থাকে। এসব খাবার না থাকলে না খেয়ে থাকে। বিয়ে বাড়ি বা কোন দাওয়াতি অনুষ্ঠানে গেলে ভাত না খেয়ে শুধু মাছ মাংস ও সবজি খায়। ছেলেটাকে নিয়ে খুব বিপদে আছি।
বিয়াশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জামাল উদ্দিন জানান, পারভেজ পড়া লেখা ও খেলাধুলায় সব দিক দিয়েই ভালো। ভাত না খাওয়ার বিষয়টি আমরা জানতাম না। নিয়মিত স্কুল করে এবং শিক্ষক ও সহপাঠীদের সাথে তার সম্পর্কও ভালো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মুজাহিদুল ইসলাম খোকন জানান, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে এক ধরনের ‘ফুড ফোবিয়া (Food phobia) বা কোনো নির্দিষ্ট খাবারের প্রতি তীব্র মানসিক অনীহা বলা যেতে পারে। তিনি আরো জানান, ‘মানুষের বেঁচে থাকার জন্য কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ভিটামিনের প্রয়োজন। বাঁধন যেহেতু দুধ, সুজি এবং ফলমূল নিয়মিত খাচ্ছে, তাই সেটির মাধ্যমেই তার শরীর প্রয়োজনীয় ক্যালোরি ও পুষ্টি পেয়ে যাচ্ছে।
তবে দীর্ঘ মেয়াদে শরীরে কোনো জটিলতা তৈরি হচ্ছে কিনা, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত বলে তিনি জানান।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব নুরুল হক নয়ন
✆ ০৯৬৩৮-৯০৭৬৩৬। ই মেইল: thedailydrishyapat@gmail.com
।
Copyright 2025 Pratidinerdrishyapat