বিনোদন ডেস্ক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিন দিন বেড়েই চলেছে ফেসবুক পেজগুলোর দৌরাত্ম্য। ভিউ আর রিচ বাড়াতে তারকাদের বক্তব্য বিকৃত করা কিংবা আপত্তিকর শিরোনামে বিভ্রান্তি ছড়ানো এখন নিত্যদিনের ঘটনা। তবে এবার এই নোংরামির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন নাট্যাঙ্গনের কিংবদন্তি অভিনেতা জাহিদ হাসান। নিজের বক্তব্য বিকৃত করা এবং সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ঘটনার ভিডিওর সঙ্গে তা জুড়ে দিয়ে একাধিক ফেসবুক পেজে কনটেন্ট প্রকাশ করায় চরম বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ এই অভিনেতা। আর কোনো ছাড় নয়, বরং সংশ্লিষ্ট পেজ ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছেন তিনি।
সম্প্রতি দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের সংগ্রাম ও মানসিক অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জাহিদ হাসান বলেছিলেন, 'আমি কষ্টে মরে যাচ্ছি, তবু মুখে হাসি রাখার চেষ্টা করি।' এটি ছিল জীবনের স্বাভাবিক চড়াই-উতরাই নিয়ে করা একটি মন্তব্য। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, কয়েকটি ফেসবুক পেজ সেই বক্তব্যকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে। শুধু তাই নয়, প্রয়াত এক অভিনয়শিল্পীর জানাজার একটি পুরোনো ভিডিওর সঙ্গে জাহিদ হাসানের সেই সাক্ষাৎকারের বক্তব্য জুড়ে দিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর ও বিভ্রান্তিকর শিরোনামে কনটেন্ট তৈরি করা হয়, যা দেখে রীতিমতো হতবাক এই অভিনেতা।
বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জাহিদ হাসান বলেন, 'যা দেখছি, সভ্যতার সব সীমা অতিক্রম করছে এসব ফেসবুক পেজ। দিন দিন এদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। এভাবে তো চলতে পারে না। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কারও সম্মানহানি করার অধিকার কারও নেই।'
অভিনেতা জানান, তার আইনজীবী এবং ডিজিটাল টিম ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পেজগুলোর তথ্য-উপাত্ত ও লিংক সংগ্রহ করেছে। কারা পরিকল্পিতভাবে ভিউ পাওয়ার আশায় সমাজে এই ধরনের বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়াচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যও জোগাড় করা হয়েছে। খুব শিগগিরই জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জাহিদ হাসান আরও বলেন, 'আমি ইতিমধ্যেই পুলিশের সাইবার অপরাধ বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দিয়েছেন। এরপর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এভাবে দিনের পর দিন ছাড় দেওয়ার কোনো মানে হয় না।'
এ প্রসঙ্গে তিনি সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, যাতে এই ধরনের নোংরামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে নজরদারি বাড়ানো হয়।
ক্ষোভের সঙ্গে এই গুণী অভিনেতা আরও যোগ করেন, 'একজন শিল্পী, খেলোয়াড়, কবি, সাহিত্যিক কিংবা রাজনীতিবিদ তৈরি হতে বছরের পর বছর সময় লাগে। তাদের কোনো বক্তব্য বা ব্যক্তিগত মুহূর্তকে বিকৃত করে মানুষের সামনে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা শুধু অনৈতিক নয়, এটা গুরুতর অপরাধ। হয়তো দেখা যাবে, হাতে গোনা কয়েকটি ফেসবুক পেজ বা গ্রুপ সমাজে নেতিবাচকতা ছড়াচ্ছে এবং সামাজিক পরিবেশ নষ্ট করছে। আমার বিশ্বাস, এদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া গেলে অন্যরাও সতর্ক হবে। সময় এসেছে এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার।'
সাইবার ক্রাইম বিভাগের সহযোগিতায় জাহিদ হাসানের এই কঠোর পদক্ষেপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারকাদের নিয়ে চলা নোংরা ট্রল এবং ফেক নিউজের সংস্কৃতি বন্ধে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন বিনোদন অঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা।
সূত্রঃ দৈনিক কালবেলা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব নুরুল হক নয়ন
✆ ০৯৬৩৮-৯০৭৬৩৬। ই মেইল: thedailydrishyapat@gmail.com
।
Copyright 2025 Pratidinerdrishyapat