সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার কয়ড়া চড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্ষা মানেই শুধু বৃষ্টি নয়, ২১৮ শিক্ষার্থীর জন্য প্রতিদিনের এক কঠিন পরীক্ষা। শ্রেণিকক্ষে পৌঁছানোর আগে তাদের পাড়ি দিতে হয় হাঁটুসমান পানি। কাঁধে স্কুলব্যাগ, হাতে জুতা এভাবেই প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে কোমলমতি শিশুরা।
স্কুল শেষে শিক্ষার্থীরা হাঁটু পানি ভেঙে বাড়ি ফিরছে। কারও পোশাক ভেজা, কারও হাত-পা কাদায় মাখামাখি। অথচ এটি কোনো হাওর বা দুর্গম চরাঞ্চল নয়; উপজেলা সদর থেকে খুব বেশি দূরেও নয় বিদ্যালয়টি। তবু সামান্য বৃষ্টিতেই বিদ্যালয়ের একমাত্র যাতায়াতের পথ ও মাঠ তলিয়ে যায়।
বই-খাতা ভিজে যাওয়ার ভয়ে অনেক শিক্ষার্থী ব্যাগ মাথার ওপরে তুলে ধরে, আবার কেউ কাঁধে ঝুলিয়ে সাবধানে পানি পেরিয়ে যায়। জুতা হাতে নিয়ে পানির মধ্যে হাঁটাই যেন তাদের নিত্যদিনের অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, বছরের পর বছর একই দুর্ভোগ চললেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রতিদিন পানি মাড়িয়ে যাতায়াতের কারণে বই-খাতা ও পোশাক নষ্ট হচ্ছে, পাশাপাশি বাড়ছে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা। ছোট শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, আশপাশে কার্যকর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় ও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। দ্রুত সংস্কার না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলতাব হোসেন জানান, বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। ফলে বিদ্যালয়ের শির্ক্ষাথীদের বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া কষ্ট হয়। এ বিষয়ে উপজেলায় এবং ইঞ্জিনিয়ার অফিসে কথা হয়েছে খুব দ্রুত এর সমাধান হবে তাছাড়া স্থানীয়ভাবেও এটা সমাধানের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতার কারণে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুদের যাওয়া আসা কষ্ট হচ্ছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমাদের কাছে আবেদন দিয়েছে আমরা তা ফরওয়ার্ডিং করে ইউএনও স্যারের কাছে দিয়েছি তিনি গ্রীণ সিগনাল দিলেই এ সমস্যা দূুর হয়ে যাবে। তাছাড়া চরপাড়া গ্রাম বাসীও এই জলবদ্ধতা দূরকরনে আমাদের সহযোগী করবে বলে তারা আাশবাদ ব্যক্ত করেছেন। আশা করা যায়, খুব দ্রুত এ জলবদ্ধতার সমস্যা দূর হয়ে যাবে।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম জানান, কয়ড়া চরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যাতায়াত সমস্যা তাদের নজরে রয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দ্রুত নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
তবে আশ্বাসে আর ভরসা রাখতে চাইছেন না, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের একটাই দাবি শিশুদের শিক্ষার পথে জলাবদ্ধতার এই বাধা দ্রুত দূর হোক, নিরাপদ যাতায়াতের জন্য রাস্তা সংস্কার ও স্থায়ী পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।
