পঞ্চগড় প্রতিনিধি
পঞ্চগড় জেলার তেতুলিয়া উপজেলার দুই ব্যক্তি মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আল-আমিন প্রধানের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার পাথর ও কয়লা বাণিজ্যে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন সোনামসজিদ ও যশোরের নোয়াপাড়া এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বাকিতে পণ্য নিয়ে বিক্রি করলেও পাওনা টাকা পরিশোধ না করে তারা আত্মগোপনে রয়েছেন এবং উল্টো পাওনাদারদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তেতুলিয়া উপজেলার শালবাহান রোড এলাকার মোহাম্মদ নুর ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং তেতুলিয়া সদর ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া এলাকার মোহাম্মদ হাফিজুর প্রধানের ছেলে মোহাম্মদ আল-আমিন প্রধান “এস এ ট্রেডিং কর্পোরেশন” নামে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। নিজেদের প্রতিষ্ঠিত ও বড় ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে তারা সোনা মসজিদ স্থলবন্দর এলাকার বিভিন্ন পাথর ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ পাথর সংগ্রহ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, মোবাইল ফোনে অর্ডার দিয়ে বাকিতে পাথর নিয়ে সেগুলো বগুড়ার গাবতলী এলাকার এক ব্যবসায়ীর মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, নির্মাণকাজ ও ঘাটে বিক্রি করা হতো। কিন্তু বিক্রয়লব্ধ অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের পরিশোধ না করে তারা সেই টাকা অন্য খাতে বিনিয়োগ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোনামসজিদের পাথর ব্যবসায়ী ফারুক অভিযোগ করে বলেন, “শফিকুল ও আল-আমিনের কথায় বিশ্বাস করে কোটি টাকার পাথর সরবরাহ করেছিলাম। দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও পাওনা টাকা ফেরত পাইনি। আজ আমি আর্থিকভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। ব্যবসা হারিয়ে পথে পথে ঘুরছি।”
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ী আলমগীর, আব্বাস, গোলাপ আলীসহ আরও অনেকে। তাদের দাবি, অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জন ব্যবসায়ীর প্রায় তিন কোটি টাকারও বেশি পাওনা বর্তমানে বকেয়া রয়েছে। পাওনা আদায়ের জন্য বারবার যোগাযোগ করা হলেও টাকা পরিশোধ না করে নানা অজুহাত দেখানো হচ্ছে। এমনকি টাকা চাইতে গেলে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী।
অভিযোগকারীরা আরও জানান, পঞ্চগড় এলাকায় শফিকুল নিজেকে বড় ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার করেন এবং আল-আমিনকে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার হিসেবে সামনে রাখেন। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সহায়তায় তারা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে লেনদেন করে আসছিলেন বলেও দাবি করেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সোনামসজিদ এলাকায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর বর্তমানে যশোরের অভয়নগর উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকায় কয়লার ব্যবসায় সক্রিয় হয়েছেন তারা। সেখানে বিভিন্ন ইটভাটা ও চিপস কারখানায় কোটি কোটি টাকার কয়লা সরবরাহের নামে নতুন করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এ কার্যক্রমে আল-আমিনের এক আত্মীয় হাসিবও সহযোগিতা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, বিষয়টি নিয়ে পঞ্চগড় ও যশোরের সংশ্লিষ্ট থানায় একাধিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখতে পাননি। ফলে পাওনা টাকা ফেরত পাওয়া এবং প্রতিকার নিয়ে তারা হতাশায় ভুগছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আল-আমিন প্রধানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। ফোন কল রিসিভ না করায় অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, পাওনা অর্থ আদায় এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব নুরুল হক নয়ন
✆ ০৯৬৩৮-৯০৭৬৩৬। ই মেইল: thedailydrishyapat@gmail.com
।
Copyright 2025 Pratidinerdrishyapat