সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় বসতভিটার উঠানে বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন করে সেচের লাইন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রকাশ করে খুঁটি অপসারণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার। এ দাবিতে সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের শুনই গ্রামে নিজ বাড়ির সামনে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী মো. টুটন মিয়াসহ গ্রামের অর্ধশতাধিক মানুষ অংশ নেন। তাঁদের অভিযোগ, বাড়ির ওপর দিয়ে বিদ্যুতের লাইন নির্মাণ না করার অনুরোধ জানিয়ে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর নেত্রকোনা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কলমাকান্দা জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপকের (ডিজিএম) কাছে লিখিত আবেদন করেন টুটন। তবে সেই আবেদন উপেক্ষা করে তাঁর বাড়ির উঠানে খুঁটি স্থাপন করে সেচের লাইন নির্মাণ করা হয়েছে।
টুটন মিয়ার বাড়ি শুনই গ্রামে। একই গ্রামের আলাল উদ্দিন সেচের লাইন নির্মাণের জন্য আবেদন করেছিলেন। টুটনের দাবি, তাঁর বাড়ি এড়িয়ে সরাসরি বিলের দিকে লাইন নেওয়ার সুযোগ থাকলেও অজ্ঞাত কারণে লাইন বাঁকিয়ে বাড়ির উঠানে খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে। খুঁটি স্থাপনের সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না।
টুটন মিয়া বলেন, ‘বিষয়টি জানিয়ে লিখিত আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাইনি। বাড়ির উঠানে বিদ্যুতের খুঁটি থাকায় পরিবারের সদস্যরা দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছেন। দ্রুত খুঁটিটি সরিয়ে অন্যত্র স্থাপন করা হোক।’
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. খোদানেওয়াজ নিজের জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ২০০২ সালে তাঁর বাড়ির ওপর দিয়ে বিদ্যুতের খুঁটি নেওয়া হয়েছিল। ২০০৪ সালে হঠাৎ বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে তাঁর ওপর পড়লে তিনি গুরুতর দগ্ধ হন। এতে তাঁর এক হাতের সব আঙুল হারানোর পাশাপাশি শরীরের অধিকাংশ অংশ পুড়ে যায়। প্রাণে বেঁচে গেলেও এখনো পঙ্গুত্ব নিয়ে জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।
খোদানেওয়াজ বলেন, ‘আমার মতো আর কারও জীবন যেন দুর্বিষহ না হয়। তাই দ্রুত খুঁটিটি অপসারণের দাবি জানাচ্ছি।’
গ্রামের আরেক বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, সরাসরি লাইন নেওয়া হলে টুটনের বাড়ি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু লাইন বাঁকিয়ে উঠানে খুঁটি স্থাপন করায় তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত খুঁটিটি সরানো প্রয়োজন।
এদিকে, শুনই গ্রামে পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের লোকজনের যোগসাজশে কয়েকটি অবৈধ সেচ সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, এসব সংযোগে বসতবাড়ি থেকে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ মিটার বিদ্যুতের তার বাঁশের খুঁটির ওপর দিয়ে বিলের মাঝখানে নেওয়া হয়েছে। সেখানে সেচপাম্প চালিয়ে জমিতে পানি দেওয়া হচ্ছে। এভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। এ ছাড়া সেচকাজে আবাসিক সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে সেচলাইনের মালিক আলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমি যথাযথ নিয়মে সেচলাইনের জন্য আবেদন করেছি। বিদ্যুৎ অফিস তাদের নিয়ম অনুযায়ী লাইন নির্মাণ করেছে। এখানে আমার কোনো হাত নেই। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’
অভিযোগের বিষয়ে কলমাকান্দা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের ডিজিএম শাহ আলম বলেন, ‘এই লাইনের আবেদন অনেক আগের। আমি কিছুদিন আগে এখানে যোগ দিয়েছি। লাইন নির্মাণের সময় জানালে বা বাধা দিলে অন্যদিকে ঘুরিয়ে নেওয়া যেত। মানুষের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করেই আমরা কাজ করি। এখন লাইন নির্মাণ হয়ে গেছে। কয়েক দিন আগে ওই সংযোগের খুঁটির তার চুরি হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় জানানো হয়েছে। তারপরও বিষয়টি দেখে কতটুকু কী করা যায়, তা বিবেচনা করব।’
অবৈধভাবে বাড়ি থেকে তার টেনে সেচ সংযোগ নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, ওই বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে কিছু ঝামেলা রয়েছে। তার চুরির বিষয়েও অভিযোগ আছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব নুরুল হক নয়ন
✆ ০৯৬৩৮-৯০৭৬৩৬। ই মেইল: thedailydrishyapat@gmail.com
।
Copyright 2025 Pratidinerdrishyapat