সোহেল খান দূর্জয়,নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনা সদর উপজেলার হাসামপুর গ্রামে জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক পরিবারের ওপর হামলা, মারধর, স্বর্ণালংকার ছিনতাই এবং বসতবাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই নারী আহত হয়েছেন।গত মঙ্গলবার দুপুর প্রায় ২টার দিকে নেত্রকোনা সদর উপজেলার হাসামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত পরিবারের সদস্য মো. মাহেনুর (৪৪) নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মো. মাহেনুর, পিতা- আব্দুল কুদ্দুস, গ্রামের বাড়ি বিচিপাড়া। বর্তমানে তিনি শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। দীর্ঘদিন ধরে ফসলি জমি ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে তার চাচা শ্বশুর বাবুল মিয়া, চাচি শাশুড়ি সাহেদা আক্তার, মঞ্জুরা আক্তার ও বজলু মিয়ার সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল।অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার দিন অভিযুক্তরা দেশীয় লাঠিসোঁটা নিয়ে মাহেনুরের শ্বশুরবাড়ির সামনে এসে তার স্ত্রী সাবিনা আক্তারকে উদ্দেশ্য করে গালিগালাজ ও আপত্তিকর মন্তব্য করতে থাকেন। এ সময় মাহেনুরের শাশুড়ি বিউটি আক্তার প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা তাদের ওপর হামলা চালান। এতে সাবিনা আক্তার ও বিউটি আক্তার আহত হন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার একপর্যায়ে সাবিনা আক্তারের গলায় থাকা ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন এবং দুই কানে থাকা ৪ আনা ওজনের একজোড়া স্বর্ণের দুলসহ মোট ১২ আনা স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা, ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে বসতঘরের টিনের বেড়া ভাঙচুর এবং বাড়ির সামনে থাকা পাঁচটি সুপারি গাছ কেটে প্রায় ১০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আহতদের ডাক-চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ার আগে বাদীপক্ষকে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আহতদের নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে সাবিনা আক্তার প্রাথমিক চিকিৎসা নেন এবং গুরুতর আহত বিউটি আক্তারকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে তাদের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এলাকায় ঝগড়ার ঘটনা ঘটেছে এবং কয়েকটি সুপারি গাছ কেটে ফেলার বিষয়টি তারা দেখেছেন। তবে স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের বিষয়ে তারা নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারেননি। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব নুরুল হক নয়ন
✆ ০৯৬৩৮-৯০৭৬৩৬। ই মেইল: thedailydrishyapat@gmail.com
।
Copyright 2025 Pratidinerdrishyapat