খ,ম,জায়েদ হোসেন,নাসিরনগর(ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) প্রতিনিধি
টানা বৃষ্টির কারণে সরবরাহ ঘাটতির অজুহাতে নাসিরনগর উপজেলায় সবজি বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বেড়েছে সবজির দাম। কাঁচামরিচের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। সেই সঙ্গে সপ্তাহের ব্যবধানে চাল, চিনি, তেল, ডাল নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সহ ও ব্রয়লার মুরগির দামও ঊর্ধ্বমুখী।
সোমবার (২৭ জুলাই) উপজেলার বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে বিভিন্ন পণ্যের দামের এ চিত্র পাওয়া যায়। এদিকে হঠাৎ করে সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ।
ব্যবসায়ীরা বলেছেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে উপজেলার বাইরে থেকে সবজিবাহী ট্রাক আসতে দেরি হচ্ছে। আবার চাহিদার তুলনায় পণ্য কম আসছে।
এছাড়া, টানা বৃষ্টির কারণে অনেক জায়গায় সবজি খেত নষ্ট হয়ে গেছে। এসব কারণে দাম বাড়তি। তবে সরবরাহ সমস্যার কারণে কোন কোন অসাধু ব্যবসায়ী একে সবজির দাম বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে নিচ্ছে বলে অভিযোগ ভোক্তাদের।
বর্ষা মৌসুম এলেই নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার যে পুরোনো অভিযোগ, বর্ষা শুরুতেই তার প্রতিফলন দেখা যায় নাসিরনগর উপজেলার বিভিন্ন বাজারে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের কারসাজিতে বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা। কাঁচাবাজার থেকে মুদি, পোশাক, মুরগী থেকে গোস্ত প্রায় সব ক্ষেত্রেই দামের উর্দ্ধগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে সীমিত আয়ের মানুষের সংসার খরচে পড়েছে বাড়তি চাপ।
ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার হাওর বেষ্টিত নাসির নগর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ও সাপ্তাহিক বাজারে কেনাকাটার ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
তবে বাজারে গিয়ে দামের চিত্র দেখে হতাশা আর ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকেই। ক্রেতাদের ভাষ্যমতে, গত সপ্তাহের তুলনায় বেশ কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে, আবার কিছু পণ্যের দাম আগেই বাড়ানো হয়েছে। উপজেলার বেশ কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে বিক্রেতাদের দেওয়া তথ্যমতে, লম্বা বেগুন ৮০-১০০ টাকা কেজি, গোল বেগুন ১০০ টাকা, টমেটো ১০০-১২০ টাকা, সিম ৬০–৮০ টাকা, শসা ১২০ টাকা, ক্ষিরা ৭০-৮০ টাকা,পুঁই শাক ৪০-৫০ টাকা কেজি,করলা ১০০ টাকা কেজি, ঢেঁরশ( ভ্যান্ডি) ১০০-১২০টাকা, মূলা ১০০ টাকা কেজি, কাঁচা মরিচ ৩০০- ৩৫০ টাকা কেজি, গাজর ১০০-১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পেঁয়াজ ৫০–৬০ টাকা, লেবু ৪০-৫০ টাকা হালি, লাউ ১০০ টাকা, কাঁচা কলা ৬০ টাকা হালি পেঁপে ৪০–৫০ টাকা এবং বরবটি ১০০–১২০,লাউ ৭০-৮০ টাকা, করলা ১০০-১২০ টাকা কেজি, জালি কুমড়া ৬০-৭০ টাকা পিস,পটল ৮০-৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। বাজারভেদে দামে কিছুটা তারতম্য থাকলেও সামগ্রিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাই স্পষ্ট।
কেনাকাটা করতে আসা হেলাল মিয়া নামে এক ক্রেতা বলেন, বৃষ্টির দোহাই দিয়ে আর বর্ষা মৌসুমে চাহিদা বাড়ে জেনে শুনেই কিছু ব্যবসায়ী আগেভাগে দাম বাড়িয়ে দেন। ফলে বর্ষা শুরুতেই বাজারে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে দৈনন্দিন খরচের তালিকায় কাটছাঁট করতে হচ্ছে।
দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বিক্রেতারা বর্ষা মৌসুমে সবজি চাষ ও সরবরাহ কমে যাওয়ার কথা বলছেন। তাদের দাবি, পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে। খুচরা পর্যায়ে কম দামে বিক্রি করা গেলে লোকসান গুনতে হবে।
এক বিক্রেতা বলেন, বর্ষা কালীন সবজি এখন কম আসছে। আড়তে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে বাড়তি দামে বিক্রি করছি। আরেকজনের ভাষ্য, বর্ষা শুরুর আগে থেকেই চাহিদা বেড়েছে। পাইকারি দামে চাপ পড়েছে। আমরা তো নিজেরা দাম ঠিক করি না, আড়তের দামের ওপর নির্ভর করতে হয়।
বাজারে কেনাকাটা করতে একাধিক ক্রেতা প্রতিবেদককে বলেন, ভোক্তারা সব সময় এক ধরনের ভোগান্তির স্বীকার হয়। ব্যবসায়ীরা নিজেদের মতো করে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। নানা অজুহাতে আমাদের পকেট কাটা হচ্ছে। অন্যান্য দেশে অনেক পণ্যের দাম কমে বা স্থিতিশীল থাকে। আমাদের দেশে ঠিক উল্টোটা দেখা যায়। কিছু ব্যবসায়ী অতি মুনাফার লোভে মৌজুদ করে রেখে দাম বাড়িয়ে দেয়। সরকারি তদারকি বাড়লে এই প্রবণতা কমে আসতো।
অনেকেই অভিযোগ করেন, বাজারে কার্যকর মনিটরিং না থাকায় সুযোগসন্ধানীরা সহজেই দাম বাড়াতে পারেন। ভোক্তারা ন্যায্য দামে পণ্য কিনতে না পেরে বাধ্য হচ্ছেন বেশি দামে কিনতে।
বর্ষাকালকে কেন্দ্র করে বাজারে কৃত্রিম সংকট, অতিরিক্ত মুনাফা ও সমন্বয়হীনতার অভিযোগ নতুন নয়। নিয়মিত বাজার তদারকি, পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায়ে দামের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
বর্ষা মৌসুম শুরুতেই বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। সামনে পুরো মাস—দাম স্থিতিশীল রাখা, কৃত্রিম সংকট ঠেকানো এবং ন্যায্য বাণিজ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সক্রিয় ভূমিকার প্রত্যাশা সবার। ক্রেতাদের আশা, কঠোর নজরদারি ও কার্যকর উদ্যোগে অন্তত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে স্বস্তি ফিরে আনতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব নুরুল হক নয়ন
✆ ০৯৬৩৮-৯০৭৬৩৬। ই মেইল: thedailydrishyapat@gmail.com
।
Copyright 2025 Pratidinerdrishyapat