
বিকাশ চন্দ্র প্রামানিক, নওগাঁ
সম্প্রতি নওগাঁর রানীনগরে পাখিপল্লি হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে পর্যটন এলাকা। চলনবিলের অধিকাংশ এলাকাজুড়ে উপজেলার হাতিরপুলের রতনডারা খালে এই পাখিপল্লি গড়ে তোলা হয়েছে। খাল হওয়ায় ঘোষণা করা হয়েছে মৎস্য অভয়াশ্রম হিসেবেও। এ কারণে পর্যটকদের কাছে অল্প সময়েই বিনোদনের স্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে এলাকাটি। আর সেই পাখিপল্লি ও মৎস্য অভয়াশ্রম রক্ষায় এক ব্যতিক্রমী ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলার একমাত্র পর্যটন এলাকা পাখিপল্লিতে স্থাপন করা হয়েছে সৌরবিদ্যুৎচালিত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সিসি ক্যামেরা। পাখিপল্লিতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অসাধু মাছ চোরদের দৌরাত্ম্য রোধ, দেশীয় মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে এবং একটি নির্ভরযোগ্য সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে এই সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল হাসান।
এই আধুনিক ব্যবস্থার ফলে এখন অফিসে কিংবা বাসায় বসেই ২৪ ঘণ্টা এলাকাটি পর্যবেক্ষণ করা যাবে মোবাইলের মাধ্যমে। এতে করে এলাকাটি পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় ও নিরাপদ হয়ে উঠবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিন জানা যায়, এটি
সোলার চালিত সিসি ক্যামেরা হওয়ায় বিদ্যুতের কোনো লাইন নেই। এ কারণে দুষ্কৃতকারী দ্বারা লাইন বিচ্ছিন্ন করে সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়ার সুযোগও নেই। ২৬ ফুট উঁচু স্টিল পাইপের ওপরে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। যার কারণে ক্যামেরা চুরি হওয়ার আশঙ্কাও কম।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার পরিকল্পনায় উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে ব্যতিক্রমী এমন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার সর্বস্তরের মানুষ। পাখি পল্লির দোকানি শফিকুল ইসলাম জানান, পাখি পল্লিতে বিভিন্ন ধরনের মানুষের আনাগোনা। তাদের মধ্যে বখাটে টাইপের লোকজন দিনে এবং রাতে এই এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম করত। খালের মাছসহ অন্যান্য উপকরণ চুরি হতো। এতে করে পাখি পল্লিতে আসা পর্যটকসহ স্থানীয় মানুষও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগত। এই সিসি ক্যামেরা স্থাপন করায় পাখি পল্লিতে অন্যরকম পরিবর্তন আসবে। কেউ খারাপ কোনো কিছু ঘটানোর সাহস পাবে না। ফলে পরিবেশ ভালো থাকবে। মাছ চুরি বন্ধ হবে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা পলাশ কুমার দেবনাথ জানান, বর্তমানে এলাকাটি বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে। আর যেখানে জল থাকবে, সেখানে মাছও থাকবে। সেজন্য রক্তদহ বিলের রতনডারা খালকে মৎস্য অভয়াশ্রম করা হয়েছে। কাজেই সব দিক বিবেচনা করে সিসি ক্যামেরা লাগানোর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ইউএনও রাকিবুল হাসান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পাখি পল্লির অভয়াশ্রম থেকে নিষিদ্ধ কারেন্ট ও রিং জাল, বানাসহ বড়শি দিয়ে মাছ চুরির অভিযোগ ছিল। কিন্তু বিশাল এই এলাকায় সার্বক্ষণিক পাহারা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। কাজেই অভয়াশ্রমে অসাধু শিকারিদের মাছ আহরণ পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে স্মার্ট প্রযুক্তি হিসেবে সোলারচালিত এই সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকবে। এতে করে অবৈধ মাছ শিকার বন্ধ হবে। একই সঙ্গে এই অঞ্চলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও অনেকাংশেই কমে যাবে।
সূত্রঃ কালবেলা।