
রমজানে বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা ব্যাপকভাবে যেসব ইবাদত করে থাকেন, তার একটি হলো তারাবি নামাজ। এই নামাজের বিশেষ ফজিলত রয়েছে।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে তারাবি পড়ার প্রতি উৎসাহিত করেছেন। এক হাদিসে তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও পরকালের আশায় রমজানের রাতে তারাবির সালাত আদায় করবে, তার অতীতের পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। (নাসায়ি : ২২০৫)
তারাবি নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদা। অপারগতা ছাড়া তা পরিত্যাগকারী গোনাহগার হবে। রমজানে প্রতিদিন এশার ফরজ নামাজ পড়ার পরে বিতিরের আগে তারাবি নামাজ পড়তে হয়।
এ নামাজ সাধারণত দুই রাকাত করে পড়া হয়। দুই রাকাত পড়ে বৈঠক ও সালাম ফেরানোর মাধ্যমে তারাবি নামাজ শেষ হয়। এরপর আবার নতুন করে দুই রাকাত তারাবি পড়া হয়। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, অনেকে দ্বিতীয় রাকাতে না বসে ভুলে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে যখন ভুলের কথা মনে পড়ে, তখন তারা দ্বিধায় পড়ে যান যে কী করবেন।
চলুন তাহলে জেনে নিই, তারাবিতে ভুলে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে গেলে করণীয় কী—
ইসলামি গবেষণা পত্রিকা মাসিক আল কাউসারে বলা হয়েছে, তারাবির নামাজে প্রত্যেক দুই রাকাত শেষে বৈঠক করা ফরজ। ভুলবশত কেউ দুই রাকাতের পর বৈঠক না করে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে গেলে নিয়ম হলো, তৃতীয় রাকাতের সিজদা করার আগে আগে ভুলটি বুঝতে পারলে বৈঠকে ফিরে আসা এবং নামাজ শেষে সাহু সিজদা করা। কিন্তু এক্ষেত্রে তৃতীয় রাকাতের সিজদা করে নিলে এরপর আর বৈঠকে ফিরে আসার সুযোগ থাকে না এবং ফরজ বৈঠক ছাড়ার কারণে পূর্বের দুই রাকাত বাতিল হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে তৃতীয় রাকাতের সাথে যদি আরও এক রাকাত মিলিয়ে চার রাকাত পড়ে নেয় এবং নামাজ শেষে সাহু সিজদা করে, তাহলে পরবর্তী দুই রাকাত সহিহ বলে ধর্তব্য হয়।
তাই এমন ক্ষেত্রে তৃতীয় রাকাতের পর আরও এক রাকাত পড়ে নিলে পরবর্তী দুই রাকাত তারাবি নামাজ হিসেবে গণ্য হবে এবং এক্ষেত্রে পূর্বের দুই রাকাত বাতিল গণ্য হবে। (আলমাবসূত, সারাখসী : ২/১৪৭, আলমুহীতুল বুরহানী : ২/২৬৩, ফাতাওয়া খানিয়া : ১/২৩৯, ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১১৮)