সাব্বির মির্জা,তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ)প্রতিনিধি
ইট-পাথরের শহরে এক টুকরো সবুজের সমারোহ। যেখানে ডানা মেলেছে নানা প্রজাতির দেশি-বিদেশি ফুল। ঘ্রাণ আর রঙের মিতালিতে এই বাগান এখন কেবল একখন্ড বাগান নয়, বরং অনেকের কাছে এক পরম প্রশান্তির নাম। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার এক স্কুল শিক্ষিকার ছাদবাগান এখন এলাকায় রীতিমতো আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মাঝদক্ষিণা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা লায়লা খলিল। শিক্ষকতা জীবনে মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে যেমন সুনাম কুড়িয়েছেন, তেমনি অবসরের পর নিজের শখকে দিয়েছেন নতুন এক মাত্রা। নিজ বাড়ির ছাদে গড়ে তুলেছেন এক দৃষ্টিনন্দন বাগান।
বাগানে পা রাখলেই চোখে পড়ে থরে থরে সাজানো নানা প্রজাতির ফুলগাছ। গোলাপ, টগর, কামিনী, জবা থেকে শুরু করে বিদেশি অর্কিড আর বাগানবিলাসের বাহারি রঙ পথচারী ও প্রতিবেশীদের মুগ্ধ করছে। দিনের আলোয় যেমন ফুলের উজ্জ্বলতা চোখ জুড়ায়, তেমনি রাতের স্নিগ্ধতায় চারপাশ মৌ মৌ গন্ধে ভরে ওঠে। সকাল থেকে রাত—প্রতিনিয়ত এই বাগান তার রূপ পাল্টে মুগ্ধতা ছড়িয়ে যাচ্ছে।
পুরোপুরি শখের বশেই এই বাগান শুরু করেছিলেন লায়লা খলিল। তিনি জানান, গাছ পালনের মধ্যে তিনি এক গভীর আনন্দ খুঁজে পান। দীর্ঘ কর্মব্যস্ত জীবনের পর অবসরের সময়টুকুকে তিনি বিষণ্ণতায় না কাটিয়ে কাজে লাগিয়েছেন প্রকৃতির সেবায়।
এ বিষয়ে লায়লা খলিল বলেন, শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসর নেওয়ার পর হাতে অনেকটা সময় ছিল। আমি চেয়েছি নিজের বাড়িটিকে সবুজে সাজিয়ে তুলতে। এই গাছগুলো আমার সন্তানের মতো। প্রতিদিন সকালে যখন নতুন ফুল ফোটে, তখন মনের সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।"
এলাকাবাসী বলছেন, বর্তমানে যখন কৃষি জমি কমে যাচ্ছে এবং গাছপালা উজাড় হচ্ছে, তখন লায়লা খলিলের এই ছাদবাগান পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। অনেকেই বাগানটি দেখতে আসছেন এবং নিজেদের বাড়ির ছাদে এমন ছোটখাটো বাগান করার অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন।
শখের এই বাগান শুধু সৌন্দর্যই বর্ধন করছে না, বরং অবসর জীবনকে কীভাবে সৃষ্টিশীল এবং আনন্দময় করে তোলা যায়, তার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন প্রধান শিক্ষিকা লায়লা খলিল। সবুজায়ন ও প্রকৃতির প্রতি তার এই ভালোবাসা তাড়াশের অন্য বাগান প্রেমীদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব নুরুল হক নয়ন
✆ ০৯৬৩৮-৯০৭৬৩৬। ই মেইল: thedailydrishyapat@gmail.com
।
Copyright 2025 Pratidinerdrishyapat