সাব্বির মির্জা ,তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলাধীন বারুহাস ইউনিয়নের কুসুম্বী টু পলাশী পাকা রাস্তার পশ্চিম পার্শ্বে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা একটি সরকারি খাল অবৈধভাবে দখল করে পুকুর খনন করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। আর এই আত্মঘাতী পুকুর খননের ফলে পানি নিষ্কাশনের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। সম্প্রতি হয়ে যাওয়া উজানের বৃষ্টির পানি নামতে না পেরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে পলাশী, পোঁওতা, বস্তুল, মনোহরপুর ও কুসুম্বী (আংশিক) এলাকার মাঠের পর মাঠ—কয়েক হাজার একর জমির পাকা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এনজিওর ঋণ আর চড়া সুদে দাদন নিয়ে ঘামঝরানো ফসলের এই করুণ দশা দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ওই অঞ্চলের হাজারো কৃষক।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুসুম্বী ও পলাশী গ্রামের মধ্যবর্তী পাকা রাস্তার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম এই খালটি। কিন্তু জনৈক এক ব্যক্তি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে খালের মাঝখানে মাটি কেটে বিশাল পুকুর তৈরি করায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে উজান থেকে নেমে আসা পানি এই প্রতিবন্ধকতার কারণে নামতে পারছে না। ফলে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ এখন অথৈ সাগরে পরিণত হয়েছে। কৃষকের কষ্টের পাকা ধান এখন পানির নিচে পচছে।
স্থানীয় পলাশী ও কুসুম্বী গ্রামের কয়েকজন কৃষক বলেন, আমরা ধার-দেনা করে, দিনরাত এক করে এই ধান আবাদ করেছি। ধান কাটার ঠিক আগ মুহূর্তে এসে খালের মুখ বন্ধ করে পুকুর কাটায় আজ আমাদের সব শেষ হয়ে গেল। চোখের সামনে সোনার ফসল পানির নিচে পচে যাচ্ছে, কিন্তু আমরা কিছুই করতে পারছি না। আমরা এই অবৈধ পুকুর দ্রুত অপসারণ করে পানি নিষ্কাশনের দাবি জানাচ্ছি। প্রশাসনের আশু পদক্ষেপই কেবল আমাদের এই সর্বনাশের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। অবিলম্বে এই বাঁধ বা পুকুরের পাড় কেটে দিয়ে পানি নামার ব্যবস্থা না করলে শুধু ধান নয়, আগামী দিনে এই অঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, সরকারি খাল বা পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ করে পুকুর খনন করা সম্পূর্ণ বেআইনি। কৃষকদের ফসলের ক্ষতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। কুসুম্বী-পলাশী এলাকার কৃষকদের এই দুর্ভোগের কথা আমি জানতে পেরেছি। আমি দ্রুতই ঘটনাস্থলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে তদন্তের জন্য পাঠাচ্ছি। খালের পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টিকারী পুকুরের অংশটি উচ্ছেদ করে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় এবং দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।
বর্তমানে মাঠের পরিস্থিতি চরম উদ্বেগজনক। বিঘার পর বিঘা জমির ধান তলিয়ে থাকায় কৃষকেরা এখন কেবলই প্রশাসনের দিকে চেয়ে আছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ৫ গ্রামের হাজারো অভাবী কৃষকের আকুল আবেদন—কোনো রকম লাল ফিতার দৌরাত্ম্য বা কালক্ষেপণ না করে, জরুরী ভিত্তিতে আজ-কালের মধ্যেই যেন এই খালের প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করা হয়। তবেই হয়তো তলিয়ে যাওয়া ধানের অন্তত কিছু অংশ ঘরে তোলা সম্ভব হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব নুরুল হক নয়ন
✆ ০৯৬৩৮-৯০৭৬৩৬। ই মেইল: thedailydrishyapat@gmail.com
।
Copyright 2025 Pratidinerdrishyapat