পলাশ চন্দ্র সরকার,মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের একটি মামলায় আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সময়মতো তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করায় প্রায় তিন বিঘা জমির পাকা বোরো ধান খেতেই নষ্ট হয়ে গেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ের গড়িমসির কারণে আদালত রিসিভার নিয়োগ দিতে পারেননি। ফলে কোনো পক্ষই ধান কাটতে না পেরে পুরো ফসল নষ্ট হয়।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার নুরুল্লাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিম নুরুল্লাবাদ গ্রামের বাসিন্দা সিরাজ উদ্দিন ওয়ারিশদের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ একটি জমির ভোগদখল নিয়ে নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলার শুনানির একপর্যায়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে বাদী ও বিবাদীপক্ষের ভোগদখলের পরিমাণ নির্ধারণ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য মান্দা উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেন আদালত।
এ বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি (স্মারক নম্বর ৩৭২) আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি। পরে গত ৫ মে (স্মারক নম্বর ৭৮৪) আদালত আবারও তাগাদা দিয়ে ১২ মে মামলার ধার্য তারিখ উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, ওই সময়সীমাও অতিক্রম করে ধার্য তারিখের ছয় দিন পর আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।
এদিকে তদন্ত প্রতিবেদন না থাকায় বিরোধপূর্ণ জমির ধান কাটার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি আদালত। ধান রক্ষায় ভুক্তভোগী পক্ষ দুই দফা রিসিভার নিয়োগের আবেদন করলেও তদন্ত প্রতিবেদন না থাকায় আদালত আবেদন মঞ্জুর করেননি। এরই মধ্যে খেতে থাকা প্রায় তিন বিঘা জমির বোরো ধান পেকে নষ্ট হয়ে যায়।
ভুক্তভোগী কামাল হোসেন বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত দেওয়ার জন্য তাঁরা একাধিকবার উপজেলা ভূমি অফিসে গিয়েও কোনো সাড়া পাননি। আদালতে সময়মতো প্রতিবেদন জমা হলে অন্তত ৬০ মণ ধান রক্ষা করা সম্ভব হতো বলে তাঁর দাবি।
ভুক্তভোগী পক্ষের আইনজীবী মিজানুর রহমান বলেন, আদালতের তাগাদাপত্রও উপজেলা ভূমি অফিস গুরুত্ব দেয়নি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা হলে আদালত রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে ফসল রক্ষার সুযোগ পেত। এ কারণে ফসল নষ্ট হওয়ার দায় সংশ্লিষ্ট কার্যালয় এড়াতে পারে না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মান্দা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিল নওরোজ বৈশাখ বলেন, তৎকালীন সার্ভেয়ার জিল্লুর রহমানকে তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি নির্ধারিত সময়ে তা সম্পন্ন করেননি। তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের ব্যর্থতা। এ জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।’
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব নুরুল হক নয়ন
✆ ০৯৬৩৮-৯০৭৬৩৬। ই মেইল: thedailydrishyapat@gmail.com
।
Copyright 2025 Pratidinerdrishyapat