[contact-form][contact-field label="Name" type="name" required="true" /][contact-field label="Email" type="email" required="true" /][contact-field label="Website" type="url" /][contact-field label="Message" type="textarea" /][/contact-form]
মো: আব্দুর রহীম মিঞা, জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রচণ্ড গরম আর দাবদাহে যখন জনজীবন অতিষ্ঠ, ঠিক তখনই টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মৌসুমি ফল কাঁচা তালের শাঁস হয়ে উঠেছে এক টুকরো প্রশান্তির নাম। জেলা শহর থেকে শুরু করে ভূঞাপুর, ঘাটাইল, মধুপুর, নাগরপুর, সখীপুর, কালিহাতী, বাসাইল, দেলদুয়ার ও মির্জাপুর উপজেলার বাজার, রাস্তার মোড়, বাসস্ট্যান্ড কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে এখন চোখে পড়ে কাঁচা তালের শাঁস বিক্রির জমজমাট দৃশ্য। সকাল গড়াতেই ছোট-বড় দোকানে ক্রেতাদের ভিড় যেন বলে দেয়—গরমে স্বস্তি খুঁজতে মানুষের প্রথম পছন্দ এখন এই রসালো প্রাকৃতিক খাবার।
গ্রামের তালগাছ থেকে সংগ্রহ করা কাঁচা তাল ভোরেই পৌঁছে যাচ্ছে উপজেলার বাজারগুলোতে। কোথাও ভ্যানগাড়িতে, কোথাও বাঁশের ঝুড়ি মাথায় নিয়ে, আবার কেউ রাস্তার ধারে ছোট অস্থায়ী দোকান সাজিয়ে বিক্রি করছেন তালের শাঁস। ধারালো ছুরি দিয়ে তাল কেটে ভেতরের স্বচ্ছ, নরম ও ঠাণ্ডা শাঁস বের করে ক্রেতার হাতে তুলে দেওয়ার দৃশ্য এখন টাঙ্গাইলের বাজারগুলোর পরিচিত ছবি।
বিশেষ করে দুপুরের তীব্র রোদে কিংবা বিকেলে স্কুল-কলেজ ছুটির পর এসব দোকানে ভিড় বাড়ে কয়েকগুণ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে চাকরিজীবী, শ্রমজীবী মানুষ—সব বয়সী মানুষের কাছেই কাঁচা তালের শাঁস এখন বেশ জনপ্রিয়। অনেকেই বলছেন, একদিকে যেমন এটি সুস্বাদু, অন্যদিকে শরীরকে ঠাণ্ডা রাখতেও দারুণ কার্যকর। তাই গরমের দিনে বাজারে বের হলেই হাতে দেখা যাচ্ছে তালের শাঁস।
বিক্রেতারা জানান, আবহাওয়া যত গরম হচ্ছে, বিক্রিও তত বাড়ছে। আকারভেদে প্রতিটি শাঁস ২০ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। একটি তালে সাধারণত দুই থেকে তিনটি শাঁস থাকে। ভালো মানের তাল হলে দাম আরও কিছুটা বেশি। তবে দাম বেশি হলেও ক্রেতাদের আগ্রহে ভাটা নেই। কারণ, কৃত্রিম ঠাণ্ডা পানীয়ের চেয়ে প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবেই অনেকে বেছে নিচ্ছেন তালের শাঁস।
কাঁচা তালের শাঁসে রয়েছে প্রচুর পানি, যা গরমে শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সহায়তা করে। এতে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়। এছাড়া এতে রয়েছে ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও আয়রনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান।
পুষ্টিবিদদের মতে, কাঁচা তালের শাঁস শরীর ঠাণ্ডা রাখতে সহায়ক এবং অতিরিক্ত গরমে ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। এতে থাকা আঁশ (ফাইবার) হজমশক্তি বাড়াতে ও কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এটি পাকস্থলীকে শীতল রাখে এবং গরমজনিত অস্বস্তি কমায়।
অনেকের মতে, গরমের সময় কোমল পানীয়ের পরিবর্তে কাঁচা তালের শাঁস একটি স্বাস্থ্যকর প্রাকৃতিক খাবার হিসেবে কাজ করতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এটি সহজপাচ্য এবং সতেজতা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর।
ভূঞাপুরের এক বিক্রেতা জানান, “সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েকশ’ তালের শাঁস বিক্রি হয়। গরম বেশি থাকলে চাহিদা আরও বেড়ে যায়। অনেক সময় মাল শেষ হয়ে যায় দ্রুত।”
ক্রেতাদেরও রয়েছে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া। অনেকের ভাষায়, ছোটবেলার স্মৃতি আর গ্রামের স্বাদ যেন ফিরে আসে এই কাঁচা তালের শাঁসে। কেউ কেউ পরিবার নিয়েও কিনে নিচ্ছেন বাড়ির জন্য।
তবে স্থানীয়দের মতে, গ্রামে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া গেলেও বাজারে এসে তালের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীরা অবশ্য বলছেন, পরিবহন ব্যয়, শ্রমিক খরচ এবং দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। আর পাঁকা তালের শ্বাসের রস দিয়ে তালের পিঠা খাওয়া ধুম ছিল তা হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলা থেকে।
সব মিলিয়ে, তীব্র গরমে টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কাঁচা তালের শাঁস শুধু একটি মৌসুমি ফল নয়, বরং হয়ে উঠেছে স্বস্তির প্রতীক। রাস্তার ধারে ছোট্ট দোকানগুলো যেন গরমে হাঁপিয়ে ওঠা মানুষের কাছে এক চিলতে প্রশান্তির ঠিকানা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব নুরুল হক নয়ন
✆ ০৯৬৩৮-৯০৭৬৩৬। ই মেইল: thedailydrishyapat@gmail.com
।
Copyright 2025 Pratidinerdrishyapat