
দেশে চলমান জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে পড়ে তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে ৩ জন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে এই জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে একটি ‘যৌথ কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ‘দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট নিরসনে এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে অবিলম্বে সরকারের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ’ শীর্ষক আলোচনার প্রস্তাব উত্থাপন করে এসব কথা বলেন তিনি।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘জ্বালানি তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে দুই-চার লিটার সংগ্রহ করতে এসে হিট স্ট্রোক করে ৩ জন কৃষক মারা গেছেন। মানুষ দিনের পর দিন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাম্পে অপেক্ষা করছে। আমি নিজে দেখেছি, ৫ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছে। যারা দিনে ১৫০০-২০০০ টাকা রুজি করতেন, তেলের অভাবে এখন তাদের ৫০০-৭০০ টাকাও হচ্ছে না। এই গরিব ও খেটে খাওয়া মানুষগুলোর প্রতি আমাদের সুদৃষ্টি দেওয়া উচিত।’
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি সরকারি দলকে ধন্যবাদ জানাই। কারণ আগে তারা বলেছিলেন জ্বালানির কোনো সংকট নেই, কিন্তু আজ ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতির চেয়ে বাস্তবমুখী ও পজিটিভ বক্তব্য এসেছে। আগের চেয়ে কিছুটা হলেও সত্য স্বীকার করা হয়েছে।’
সংসদে ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেশন বা চরিত্র হনন বন্ধের আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আসেন আমরা ঠেলাঠেলির রাজনীতি বন্ধ করি। একে অপরকে গালি দেওয়া বা দোষারোপ করা নয়, বরং কনস্ট্রাক্টিভ বা গঠনমূলক সমালোচনা করি। দেশের মানুষ আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। আমরা না পারার কালচার থেকে বেরিয়ে আসার কালচারে যেতে চাই।’
জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সরকারি ও বিরোধী দলের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, ‘জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য আমাদের শর্ট টার্ম, মিড টার্ম এবং লং টার্ম স্ট্র্যাটেজি থাকতে হবে। যদি সরকারি দল মনে করে একটি কমন বা যৌথ কমিটি করা দরকার, তবে আমরা তাতে সাড়া দেব। আমাদের কাছে কিছু প্রপোজাল (প্রস্তাবনা) আছে, যা আমরা সরকারের হাতে তুলে দিতে চাই।’
অসাধু ব্যবসায়ী ও পাচারকারীদের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘সংকট এলে কিছু লোক ঘাপটি মেরে বসে থাকে সুযোগ নেওয়ার জন্য। এই অসাধু লোক যদি আমি নিজেও হই, আমাকেও ছাড় দেবেন না। জাতির স্বার্থে তাদের পাকড়াও করুন এবং জনগণের সামনে উন্মোচিত করে দিন।’
বক্তব্যের শেষে বিরোধীদলীয় নেতা আবেগপ্রবণ কণ্ঠে বলেন, ‘আসুন সুন্দরবনের মধু একটু আমরা ঠোঁটে লাগাই, রংপুরের ছ্যাঁকা মরিচের কথা ভুলে যাই। আমরা সবাই মিলে দেশের জন্য ভালো কিছু করে যেতে চাই। যেন তৃপ্তি নিয়ে মরতে পারি যে, এই জাতির জন্য কিছু একটা করতে পেরেছি।’
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব নুরুল হক নয়ন
✆ ০৯৬৩৮-৯০৭৬৩৬। ই মেইল: thedailydrishyapat@gmail.com
।
Copyright 2025 Pratidinerdrishyapat