পারভেজ রহমান,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম নগরীকে জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে চলমান মেগা প্রকল্পের কাজের স্বার্থে নির্মিত অস্থায়ী বাঁধগুলো দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। শনিবার (২ মে) রাতে নগরীর প্রবর্তক মোড়সহ বিভিন্ন প্লাবিত এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি এ তথ্য জানান।
মেয়র জানান, সংস্কার কাজের কারণে কিছু জায়গায় সাময়িক পানি জমলেও তা দ্রুত নেমে যাচ্ছে। তার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী:
আগে যেখানে ২-৩ দিন পানি জমে থাকতো, এখন তা ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টার মধ্যে নেমে যাচ্ছে।
ভারী বৃষ্টিতে সাময়িক পানি জমা স্বাভাবিক, তবে দীর্ঘস্থায়ী না হওয়াটাই উন্নতির লক্ষণ।
নগরের হিজড়া খাল, জামালখান, মুরাদপুর ও রামপুর খালসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে প্রায় ৩০টি অস্থায়ী বাঁধ অপসারণের কাজ চলছে। সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড ও সিডিএ এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
কাজ শেষ করতে সেনাবাহিনী ৫ দিন সময় চাইলেও বৃষ্টির কারণে অতিরিক্ত ২ দিনসহ মোট ৭ দিন সময় লাগতে পারে।
আগামী ২৫ মে থেকে সম্ভাব্য ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস থাকায়, ২০ মে’র মধ্যে সব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবন্ধকতা সরানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
কেবল বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দেওয়া নয়, টেকসই সমাধানের জন্য চসিক বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে:
১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া নালা-নর্দমা পরিষ্কার কার্যক্রম আগামী ৬ মাস পর্যন্ত চলবে।
নগরীর ২১টি খাল খননের জন্য নতুন করে ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) তৈরি করা হচ্ছে।
সিডিএ ও সেনাবাহিনীর কাজে সহযোগিতা করার পাশাপাশি রিটেইনিং ওয়াল ও শিটপাইলের কাজ ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে যাতে রাস্তা বা খালের ক্ষতি না হয়।
"আমরা চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে বদ্ধপরিকর। উন্নয়নের স্বার্থে সাময়িক যে ভোগান্তি হচ্ছে, তার জন্য আমি নগরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। তবে পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া জরুরি।
মেয়র আরও উল্লেখ করেন যে, চাটগাঁর গেইটস মোড়, চকবাজার ও কাট্টলী এলাকার মতো স্পটগুলোতে পানি জমার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি নগরবাসীকে এই উন্নয়ন কার্যক্রমে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে পাশে থাকার আহ্বান জানান।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব নুরুল হক নয়ন
✆ ০৯৬৩৮-৯০৭৬৩৬। ই মেইল: thedailydrishyapat@gmail.com
।
Copyright 2025 Pratidinerdrishyapat