সলঙ্গা (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার ঘুড়কা উত্তর পাড়া গ্রামের ১০ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী শিশু কর্ন কুমার দাস জন্মের পর থেকেই পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াতে বা হাঁটতে পারে না। অন্য শিশুদের মতো স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করার সুযোগ তার হয়নি কখনো। হাতের ভর দিয়ে চলাচল করেই কাটছে তার প্রতিদিনের জীবন। দারিদ্র্য ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতার দ্বৈত কষ্ট নিয়ে বেড়ে উঠছে শিশুটি।
কর্ন কুমার দাসের বাবা শংকর চন্দ্র দাস পেশায় একজন সেলুন কর্মী। অল্প আয়ে সংসার চালাতে গিয়ে ছেলের চিকিৎসা কিংবা একটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করতে পারেননি তিনি। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে বর্তমানে কর্ন তার দিদার কাছেই থাকছে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ দিদা সাধ্যমতো তাকে লালন-পালন করলেও শিশুটির প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
কর্নের বাবা শংকর চন্দ্র দাস জানান, “আমার ছেলে জন্মের পর থেকেই হাঁটতে পারে না। অনেক জায়গায় চিকিৎসা করিয়েছি, কিন্তু আর্থিক সমস্যার কারণে নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারিনি। আমি সেলুনের কাজ করে যা আয় করি, তা দিয়ে সংসার চালানোই কষ্টকর। একটি হুইলচেয়ার কিনে দেওয়ার সামর্থ্য আমার নেই। কেউ যদি আমার ছেলেটার জন্য একটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করে দিত, তাহলে সে অনেক সহজে চলাফেরা করতে পারত।”
স্থানীয়দের মতে, কর্ন অত্যন্ত শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের একটি শিশু। কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে তার চলাফেরা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। প্রতিদিন হাতের ভর দিয়ে চলতে গিয়ে তাকে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। একটি হুইলচেয়ার পেলে তার জীবনযাত্রার মান অনেকটাই উন্নত হবে।
বিষয়টি জানার পর রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান কর্নের জন্য একটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, “অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব। কর্নের বিষয়টি জেনেছি। তার জন্য একটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।”
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইলিয়াস হাসান শেখ বলেন, “কর্ন কুমার দাসের বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য যাচাই করে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় তাকে সরকারি সহায়তা ও প্রতিবন্ধী ভাতার সুবিধার আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি হুইলচেয়ারের বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।”
সমাজসেবা কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের আশ্বাসে কর্নের পরিবার এবং স্থানীয়দের মধ্যে আশার আলো জেগেছে। তারা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় খুব শিগগিরই একটি হুইলচেয়ার পাবে শিশুটি।
এলাকাবাসী সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিও কর্ন কুমার দাসের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, একটি হুইলচেয়ারই বদলে দিতে পারে অসহায় এই শিশুটির জীবন। সামান্য সহায়তাই তাকে দিতে পারে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করার সুযোগ এবং নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব নুরুল হক নয়ন
✆ ০৯৬৩৮-৯০৭৬৩৬। ই মেইল: thedailydrishyapat@gmail.com
।
Copyright 2025 Pratidinerdrishyapat