শিমুল রেজা, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ
চুয়াডাঙ্গার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে জেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে সাধারণ মানুষ পাসপোর্ট করাতে আসেন। তাঁদের বেশির ভাগই পাসপোর্ট তৈরির কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত নন। পাসপোর্ট করাতে কী কী কাগজ লাগে বা কী করতে হয়, তা জানেন না। এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে সংঘবদ্ধ দালাল চক্রটি এসব সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বাইরে থেকে বেশির ভাগ সময় সুযোগ বুঝে পাসপোর্ট করাতে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কাগজপত্র হাতিয়ে নেয় দালালেরা। ফলে পাসপোর্ট কার্যালয়ে ঢোকার আগেই তাঁরা জিম্মি হয়ে যায় দালালদের কাছে। পরে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে দালালদের কাছ থেকে কাগজপত্র ফেরত নিতে হয় তাঁদের।
সূত্র জানায়,সম্প্রতি সংঘবদ্ধ একটি দালাল চক্র চুয়াডাঙ্গা পাসপোর্ট অফিসের সামনে এবং পার্শ্ববর্তী ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়া প্রার্থীদের পাসপোর্ট ফরম পূরণ, কাগজপত্র ঘাটতি, সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রলুব্ধ করে। পাসপোর্ট প্রার্থীরা তাদের প্রতারণায় রাজি না হওয়া পর্যন্ত নানাভাবে বিরক্ত করতে থাকে। অল্প সময়ে পাসপোর্ট করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলা শহর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার অদূরে ভিমরুল্লাহ নামক স্থানে অবস্থিত আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস কার্যালয়। নতুন কোনো মানুষ পাসপোর্ট অফিসের দিকে এগোলেই পথ আগলে দাঁড়ান দালাল সিরাজুল ইসলাম। এরপর কথাবার্তার একপর্যায়ে সঙ্গে করে চায়ের দোকানে নিয়ে যান। সেখানেই হয় বাড়তি টাকা দিয়ে পাসপোর্ট তৈরির চুক্তি। এমনকি কাগজপত্র ঘাটতি, ভুল বা ভুয়া কাগজপত্র ছাড়ায় পাঁচ-ছয় হাজার টাকা এক্সট্রা খরচ করলে দ্রুততম সময়ে পাসপোর্ট তৈরির দায়িত্ব নেন। নানারকম প্রলোভন দেখিয়ে পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের কাছে থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া। কার্পাসডাঙ্গা গ্রামের দালাল চক্রের সদস্য সিরাজুল ইসলামের কাজ।
দামুড়হুদার পীরপুরকুল্লা গ্রাম থেকে পাসপোর্ট করাতে আসা মৃত ইসরাফিল মল্লিকের ছেলে এনামুল হক বলেন, ইন্ডিয়াতে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট করাতে গিয়ে পাসপোর্ট অফিসে ঢোকার আগেই দালাল চক্রের সদস্য সিরাজুল ইসলাম আমার কাগজপত্র কেড়ে নেন এবং ১২ হাজার টাকায় দ্রুততম সময়ে পাসপোর্ট তৈরির দায়িত্ব নেন। বাধ্য হয়ে ১২ হাজার টাকায় দালাল চক্রের সিরাজুল ইসলাম -এর সঙ্গে পাসপোর্ট করে দেওয়ার চুক্তি করি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাসপোর্ট না পেয়ে দালালকে বিষয়টি জানায়। দালাল সিরাজুল ইসলাম বলেন আপনার পাসপোর্ট এর সমস্যা আছে আরও ১২ হাজার টাকা লাগবে। আমি মূর্খ মানুষ কোনো কিছু না বুঝে দালালের কথা মত আর ও ১২ হাজার টাকা দিই। কিন্তু আজ চার মাস অতিবাহিত হয়ে গেছে,এখন দালাল কে ফোন দিলে আরও দশ হাজার টাকা দিতে হবে বলে জানান। দীর্ঘদিন পার হয়ে গেছে এখনো পর্যন্ত আমি আমার পাসপোর্ট হাতে পায়নি। পাসপোর্ট করে দিচ্ছে না। এমনকি টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন ভাবে ফোনে হুমকি ধামকি দিচ্ছে দালাল সিরাজুল ইসলাম।
পাসপোর্ট প্রত্যাশী আমিনুল ইসলাম বলেন, অল্প সময়ে পাসপোর্ট পাইয়ে দেওয়াসহ নানা প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দালাল সিরাজুল ইসলাম। এসব দালালদের খপ্পরে পড়ে পাসপোর্ট করাতে আসা সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে।
বিষয়টি জানতে অভিযুক্ত মো.সিরাজুল ইসলামকে ফোন করলে তিনি বলেন,আমি চুয়াডাঙ্গার একজনের মাধ্যমে কাজ করি, ফাইল প্রতি অল্প কিছু টাকা নিয়ে থাকি। এনামুল হকের পাসপোর্ট এর বিষয়ে যে টাকার কথা বলা হয়েছে আমি অল্প কিছু টাকা রেখে যাদের মাধ্যমে কাজ করি তাদেরকে দিয়েছি। প্রয়োজনে আপনি চুয়াডাঙ্গা তে আসেন তার সামনে মোকাবেলা করে দিবো।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-সহকারী পরিচালক এস, এম, জাকির হোসেন বলেন, দালাল চক্রের থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পাসপোর্ট করার জন্য সরকারি নির্ধারিত ফি ব্যাংকের মাধ্যম জমা দিলেই হবে। তিনি আরও বলেন, পাসপোর্ট করার জন্য দালাল ধরার প্রয়োজন নেই। কোনো দালালের হাতে টাকা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য তুলে না দেওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত আবেদনকারীদের কঠোর ভাবে সতর্ক করা হয়ে থাকে। এছাড়াও বিজ্ঞপ্তি নোটিশ বোর্ডে দালাল হতে সাবধান লেখা রয়েছে। নিজেকে দালাল থেকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখতে আবেদনকারীদের সতর্ক ও সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব নুরুল হক নয়ন
✆ ০৯৬৩৮-৯০৭৬৩৬। ই মেইল: thedailydrishyapat@gmail.com
।
Copyright 2025 Pratidinerdrishyapat