শিমুল রেজা, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
সকালের শিশির ভেজা পথ, যা শীতের আগমনী বার্তাকে জানান দিচ্ছে। দিনে কিছুটা গরম হলেও সন্ধ্যা হলেই বোঝা যায় শীতের আগমন। এরই মধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলার মাঠে মাঠে গাছিরা খেজুর গাছ পরিচর্যা শুরু করেছেন। যারা খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে পারদর্শি তাদেরকে গাছি বলা হয়।
গাছিরা হাতে দা, কোমরে ঠোঙ্গা বেঁধে নিপুন হাতে গাছ চাঁছাছোলা করছে। এরই মধ্যে কয়েকজন গাছে নলি মারতে শুরু করেছেন। কয়েক দিন পরেই গাছিদের খেজুর গাছ কাটার ধুম পড়বে। শীতের মৌসুম আসলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সর্বত্র খেজুরগাছ কাটার ধুম পড়ে যায়। ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মাঠের প্রতিটা খেজুর গাছে দেখা যাচ্ছে এমন দৃশ্য।
খেজুরের গুড় তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে গাছিরা।
শীতের মৌসুম মানেই নলিন খেজুর গুড়ের মৌ মৌ গন্ধে ভরে ওঠে পুরো গ্রাম। শীতের সকালে খেজুর রসের তৃপ্তি-ই আলাদা আর খেজুর রসের ক্ষীর-পায়েসের মজা আছেই। প্রতিদিন গ্রামের কোনো না কোনো বাড়িতে খেজুর রসের খবারের আয়োজন চলে। খেজুরের শুধু রসই নয়, পাটালি, নলেন গুড়ের সু-স্বাধ নিতে অপেক্ষায় গ্রাম-বাংলার মানুষ। চুয়াডাঙ্গা গুড়ের জন্য বিখ্যাত জেলা।
আর কয়েক সপ্তাহে পর খেজুর গাছে রস সংগ্রহ করতে শুরু করবে এ জেলার গাছিরা। তারপর হবে উন্নত মানের গুড়, পাটালি উৎপাদন। যা এ জেলার গুড় ভেজাল মুক্ত সু-স্বাদু মানের গুড় তৈরি করে এ জেলার কৃষকরা।
এবার এ মৌসুমে গাছিরা প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০টি গাছ কাটছে। যা পারিশ্রমিক আয় আসছে প্রতিদিন ৮০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা করে। এতে খুশি গাছিরা। চুয়াডাঙ্গা জেলার ৪টি উপজেলার প্রতিটি মাঠে এখন গাছ কাটা নিয়ে চলছে গাছিদের মধ্যে এক রকম প্রতিযোগিতা। প্রতিবার গাছিরা শীত মৌসুম আসলে তারা গাছ কেটে যে আয় হয় এ থেকে তাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে।
নভেম্বর শুরু থেকে গাছে গাছে থাকবে মাটির হাড়ি। যাতে করে রস সংগ্রহ করা যায় এবং এ থেকে গুড় উৎপাদন করে। তা বিক্রি করা হবে দেশের বিভিন্ন জেলায়।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার এ জেলায় ২ লাখ ৭১ হাজার খেজুর গাছ আছে। এখন এসব গাছ কাটা প্রস্তুতি চলছে। তারপর রস সংগ্রহ করে গুড় উৎপাদন করা হবে। এবার এ জেলার আড়াই হাজার টন গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেলগাছি গ্রামের গাছি আ. মজিদ বলেন,প্রতি বছরের মতো এ বছরেও আগেভাগে তিনি ১২০টি খেজুর গাছ তুলেছেন।
দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনার গাছি রহম বারি বলেন, এ বছর তিনি আগাম খেজুর গাছ তুলছেন। আর কয়েকদিন পর গাছ তোলার জন্য লোক পাওয়া খুব কষ্ট হয়ে যাবে বলে এ জন্য তিনি অগ্রিম গাছ তুলছেন। প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০টি গাছ তুলছেন তাতে একজন শ্রমিককে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা হাজিরা দিচ্ছেন।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কৃষনো রায় বলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলার উৎপাদিত গুড়ের মান ভালো। যে কারণে চাহিদা খুব ভালো। আর এ চাহিদা মিটানোর জন্য এবার গাছিরা রস সংগ্রহের জন্য গাছ কাটার প্রস্ততি শুরু করেছে। চুয়াডাঙ্গা জেলার উৎপাদিত গুড় এ জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হয়ে থাকে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব নুরুল হক নয়ন
✆ ০৯৬৩৮-৯০৭৬৩৬। ই মেইল: thedailydrishyapat@gmail.com
।
Copyright 2025 Pratidinerdrishyapat