পলাশ চন্দ্র সরকার,মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁর মান্দায় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীর কাছ থেকে অর্থ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেওয়ার পর এখন ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে করার মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী এক পরিবার। সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে মান্দা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের পাকুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা তনয় কুমার মণ্ডল নামের এক ব্যক্তি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, দীর্ঘ প্রায় আট বছর ধরে তিনি ঢাকার সাভারের একটি কোম্পানিতে এবং তার স্ত্রী সাথী রানী মণ্ডল একটি গার্মেন্টস কারখানায় কর্মরত ছিলেন। চাকরিকালীন ছয় থেকে সাত মাস আগে ইসলাম কাজীর সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে ইসলাম কাজী একটি কোম্পানিতে উচ্চ বেতনে রিসিপশনিস্ট পদে স্ত্রী সাথী রানীকে চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব দেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১৯ মার্চ ইসলাম কাজী আরও তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে তনয় কুমারের গ্রামের বাড়িতে যান। সেখানে চাকরির বিষয়ে আলোচনা শেষে তিনি ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে ওই দিন ৩০ হাজার টাকা, পাসপোর্ট সাইজের দুই কপি ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তার কাছে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে চাকরির চুক্তির কথা বলে একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে সাথী রানী মণ্ডলের স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, গত ২৬ মে চাকরির ভাইভার কথা বলে সাথী রানী মণ্ডলসহ আরও তিনজন নারীকে চট্টগ্রাম এবং পরে কক্সবাজারে নিয়ে যান অভিযুক্ত ইসলাম কাজী। সেখানে দুই দিন অবস্থানের পর ভাইভা হবে না জানিয়ে তাকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়।
তনয় কুমার মণ্ডল দাবি করেন, সম্প্রতি তারা চাকরি ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছেন। গত রোববার (২৭ জুন) ইসলাম কাজী তাদের বাড়িতে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সামনে দাবি করেন, সাথী রানী ধর্মান্তরিত হয়ে তাকে বিয়ে করেছেন। এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তনয় কুমার। তার ভাষ্য, চাকরির নামে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী সাথী রানী মণ্ডল বলেন, ‘আমি কোনোভাবেই ধর্মান্তরিত হইনি এবং ইসলাম কাজীকে বিয়েও করিনি। এ ধরনের প্রচারণার কারণে আমাদের সামাজিকভাবে চরমভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য আমি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
অভিযুক্ত ইসলাম কাজী ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার কয়ড়া গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি সাভার নবীনগর পল্লী বিদ্যুৎ সলগ্ন ভাড়া বাসায় থেকে একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। তার বক্তব্য জানতে মোবাইলফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব নুরুল হক নয়ন
✆ ০৯৬৩৮-৯০৭৬৩৬। ই মেইল: thedailydrishyapat@gmail.com
।
Copyright 2025 Pratidinerdrishyapat