কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকদিন আগেও ধানগুলো ছিল সবুজ ও সুস্থ। কিন্তু হঠাৎ করেই পাতায় দাগ পড়া শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে পুরো ক্ষেত শুকিয়ে যায়। স্থানীয়ভাবে কেউ এই রোগের সঠিক কারণ নির্ণয় করতে পারছেন না।
ক্ষতিগ্রস্ত মোহাম্মদ আলী কৃষক জানান, আমার এই তিন বিঘা জমিতে আটাশ ধান লাগিয়েছিলাম জামতৈল বাজার থেকে ধান বীজ নিয়ে এসে। লাগানোর পর প্রথমে ভালোই ছিল কিন্তু যখন ধান বের হতে শুরু করল এরপর থেকে দেখি অচেনা এক রোগ সংক্রামিত হয়ে সমস্ত ধান সোনালী আকার ধারণ করেছে আমরা মনে করেছিলাম পেকে গেছে। কিন্তু একটি ধানের ভিতরেও কোনো দানা নেই। আমরা এ ব্যাপারে যখন প্রথম দেখি তখন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় গেলে ওনারা ওষুধ লিখে দিয়েছিল সেটা স্প্রে করেছিলাম কিন্তু কোন লাভ হয়নি। যখন পুরো ধান নষ্ট হয়ে যায় তখন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসেছিল। তারা আমাকে এই ধান যেন না লাগাই । এই ধান এখন বুড়ো হয়ে গেছে বাজারে নতুন নতুন ধান এসেছে সেগুলো যেন লাগাই সেভাবে পরামর্শ দিলেন । আমার এই যে ক্ষতি হলো সেই ক্ষতি কিভাবে পূরণ করব ভেবে পাচ্ছি না আবার কৃষি অফিস থেকে যে কিছু দেবে বা কোন প্রণোদনা দেওয়ার কথাও বলল না। এই জমির ধান দিয়েই আমাদের সারা বছরের সংসার চলে। হঠাৎ এমন ক্ষতি হয়ে যাওয়ায় আমরা পুরোপুরি হতাশ হয়ে পড়েছি।
এদিকে স্থানীয় অনেকেই মনে করেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তা এবং কৃষি বিভাগের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হলে হয়তো এমন বড় ক্ষতি এড়ানো যেত। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কিছু প্রণোদনা অথবা সাহায্য সহযোগিতা করলে তাদের ক্ষতিটা কিছুটা হলেও পূরণ হবে।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন চন্দ্র বর্মন কে একাধিকবার তার মুঠোফোনের যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
ছবির ক্যাপশন: সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে জমির ধান নষ্ট হওয়ায় জমির মাঝেই মাথায় হাত দিয়ে বসে আছেন কৃষক।
