আবু কাওসার মাখন ,রাজশাহী ব্যুরো
বৈষম্যমূলক করনীতি, ব্যাংক ঋণের আকাশছোঁয়া সুদের হার এবং নির্মাণসামগ্রীর লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে রাজশাহীর সম্ভাবনাময় আবাসন খাত এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। অবিলম্বে এই নীতিমালার সংস্কার করা না হলে স্থানীয় আবাসন ব্যবসায়ীরা দেউলিয়া হয়ে যাবেন এবং এর সাথে জড়িত ২৬৯টি সহযোগী শিল্পে ধস নামবে।
আজ নগরীর এক রেস্টুরেন্টে বেলা ১২ টায় সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহীর আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিডা(REDA) এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রিডার সাধারণ সম্পাদক আ,স,ম মিজানুর রহমান কাজী বলেন,রাজশাহী মূলত একটি চাকুরিজীবী ও শিক্ষাকেন্দ্রিক শহর। ঢাকা বা চট্টগ্রামের মতো এখানে বড় কোনো কর্পোরেট ক্রেতা নেই; এখানকার আবাসন বাজার সম্পূর্ণভাবে মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত শ্রেণির সঞ্চয় ও পেনশনের টাকার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ২০২৩ সালের নতুন করনীতিতে যৌথ উন্নয়ন মডেলে জমির মালিকের ওপর ১৫% ক্যাপিটাল গেইন্স ট্যাক্স আরোপ করার পর থেকে জমির মালিকরা ডেভেলপারদের জমি দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন।
এর ফলে রাজশাহীতে নতুন প্রকল্প শুরু করা এক প্রকার বন্ধ হয়ে গেছে। সাইনিং মানি, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্তি এবং পরবর্তীতে বিক্রির প্রতিটি ধাপে এই ১৫% ট্যাক্স দেওয়ার কারণে আবাসন খাতে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। "রড-সিমেন্টের লাগামহীন দামের কারণে রাজশাহীতে বর্গফুট প্রতি উৎপাদন খরচ ২,০০০ টাকা বেড়েছে। অন্যদিকে ঋণের সুদ ১৬% ও রেজিস্ট্রেশন খরচ ১৩% হওয়ায় ফ্ল্যাট এখন মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে।"ব্যবসায়ীরা জানান, নতুন শুল্ক ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রতি টন রড উৎপাদনে খরচ প্রায় ১১,০০০ থেকে ১২,০০০ টাকা বেড়েছে। ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও বাজারে ক্রেতা নেই। ফ্ল্যাট বিক্রি না হওয়ায় ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে পারছে না অনেক প্রতিষ্ঠান। বক্তারা সতর্ক করে বলেন, দেশের জিডিপিতে ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ অবদান রাখা এই খাতটি ধসে পড়লে পোশাক খাতের পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কর্মসংস্থান খাতের প্রায় ২ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বেকার হয়ে পড়বেন। এছাড়া চড়া করের কারণে ক্রেতারা নিবন্ধন না নেওয়ায় সরকার বার্ষিক ৩০,০০০ কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব হারাচ্ছে। সংকট উত্তরণে সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকারের কাছে দুটি জরুরি দাবি জানানো হয়: প্রথমত, জমি হস্তান্তর, সাইনিং মানি এবং ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশনের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত কর ও ভ্যাটের হার কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে আনা; এবং দ্বিতীয়ত, মধ্যবিত্তের আবাসন স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে একক অঙ্কের (Single Digit) সুদে দীর্ঘমেয়াদী বিশেষ গৃহঋণের ব্যবস্থা করা। সময়মতো নীতিগত সংস্কার না করা হলে এই স্থবিরতা সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রিডার সভাপতি তৌফিকুর রহমান লাভলু, সিনিয়র সহ-সভাপতি এ্যাড,ইরশাদ আলী ইশা, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ কবির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মেজবাউল বারীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব নুরুল হক নয়ন
✆ ০৯৬৩৮-৯০৭৬৩৬। ই মেইল: thedailydrishyapat@gmail.com
।
Copyright 2025 Pratidinerdrishyapat