শাহ আলম সরকার, উল্লাপাড়া :
“পড় এবং নিজেকে জানো”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় নতুন রূপে যাত্রা শুরু করেছে মুক্তপঠন পাঠাগার। দীর্ঘ প্রায় এক যুগ পর ঘরোয়া পরিবেশের গণ্ডি পেরিয়ে এবার সবার জন্য উন্মুক্ত হলো পাঠাগারটি। শিশু, কিশোর, তরুণ ও প্রবীণ—সবার জন্য উন্মুক্ত মুক্তপঠনের উদ্যোগ আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এক লক্ষ বই সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে মুক্তপঠন। ইতিমধ্যেই নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজস্ব সংগ্রহ থেকে বই দান করছেন এবং পাঠাগারে এসে বই পড়ছেন।
রাজশাহী নিউগভ. ডিগ্রী কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুল মালেক মুক্তপঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বইয়ের প্রতি নতুন প্রজন্মকে আকৃষ্ট করার আহ্বান জানান। তাঁরা মুক্তপঠনের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
নতুন রূপে পাঠাগারের যাত্রা উপলক্ষে গত ২৬ জুলাই এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন উল্লাপাড়া উপজেলা পুস্তক সমিতির সভাপতি মো. আলাউদ্দীন সরকার, বিশিষ্ট আবৃত্তি শিল্পী বাবলু, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. সোহেল হোসেন, মো. কামরুজ্জামান, মো. মহসিন হোসেন, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান, মো. আক্তারুজ্জামান শামীমসহ অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। এছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। সভাপতিত্ব করেন উপজেলার বাখুয়া বিদ্যাপিঠ ও বিদ্যাপিঠ লাইব্রেরির পরিচালক মো. আবু আক্কাস আলী।
পাঠাগারের সমৃদ্ধি বাড়াতে স্থানীয় লেখক, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এসেছেন। উল্লাপাড়া বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস তাঁর ক্রয়কৃত শতাধিক বই পাঠাগারে দান করেন। প্রবীণ লেখক জনাব নজরুল ইসলাম তাঁর নিজস্ব রচনার বেশ কিছু প্রকাশনা মুক্তপঠনে উপহার দেন।
এছাড়া বিশিষ্ট লেখক ফিরোজ আলম, ম্যাজিক মেথডের প্রণেতা আবু বকর সিদ্দিক শাওন, অনন্য চিন্তাশীল লেখক আমজাদ হোসেন এবং তথ্যপ্রযুক্তির দক্ষ লেখক আবু তালেব তুহিন এবং সহকারী অধ্যাপক দুলাল কুমার দত্ত মুক্ত পঠনের সমৃদ্ধিতে নিরলসভাবে কাজে করে যাছ্ছেন।
এ পাঠাগারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো-এখানে উল্লাপাড়া উপজেলার স্থানীয় লেখকদের প্রকাশনার একটি বিশেষ কর্নার উল্লাপাড়া কর্নার রয়েছে। এর মাধ্যমে পাঠকরা স্থানীয় লেখক ও তাঁদের সৃষ্টির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
উল্লেখ্য ২০১১ সালে উল্লাপাড়া উপজেলায় প্রথম গ্রন্থমেলার আয়োজনের মধ্য দিয়েই “মুক্তপঠন” কার্যক্রমের সূচনা হয়। মোমেনা আলী বিজ্ঞান স্কুলের তৎকালীন সহকারী শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতুল সরকারকে উপজেলা চত্বতে গ্রন্থমেলার প্রস্তাব দেন। সেই উদ্যোগ থেকেই প্রথম গ্রন্থমেলার আয়োজন হয় এবং পরবর্তীতে বই সংগ্রহ ও দান কর্মসূচির মাধ্যমে মুক্তপঠন পাঠাগারের ভিত্তি স্থাপিত হয়। এমন সৃজনশীল উদ্যোগে স্কুলের ক্ষুদে সাংবাদিক নামে খ্যাত কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাদের মধ্যে—পলাশ, শ্রাবণী, শান্ত, সাব্বির, সজল, সাব্বির আহমেদ, নিফাত, সম্পা, শ্রভ্রা, সাগর, আ. রব ও দীপ্তি অন্যতম। তাদের আন্তরিক সহযোগিতা ও প্রচেষ্টায় “মুক্তপঠন”-এর ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
স্থানীয়রা আশা করছেন, তথ্যপ্রযুক্তির যুগে মুক্তপঠন শুধু একটি পাঠাগার হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং জ্ঞানচর্চা, সংস্কৃতি ও মুক্তচিন্তার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ভবিষ্যতে আলোকিত সমাজ গঠনের এক মহৎ প্ল্যাটফর্মে রূপ নেবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব নুরুল হক নয়ন
✆ ০৯৬৩৮-৯০৭৬৩৬। ই মেইল: thedailydrishyapat@gmail.com
।
Copyright 2025 Pratidinerdrishyapat