সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে সিরাজগঞ্জের মিষ্টির দোকানগুলোতে এখন উপচে পড়া ভিড়। ঈদ আনন্দের অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে কম-বেশি সবাই মিষ্টির দোকানে ছুটছেন। তবে উৎসবের এই সুযোগে সিরাজগঞ্জের মিষ্টির বাজারগুলোতে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে উঠেছে আকাশচুম্বী দাম রাখা, রসে (শিরা) ওজন বাড়ানো এবং কার্টুনের ওজনে অভিনব প্রতারণার অভিযোগ। এতে মিষ্টি কিনতে গিয়ে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করছেন সাধারণ ক্রেতারা।
সিরাজগঞ্জ শহর,বাজার স্টেশন, কড্ডার মোড়, চান্দাইকোনা, ধানগড়া,নিমগাছি, পিপুলবাড়ি, উল্লাপাড়া,তাড়াশসহ বিভিন্ন নামী-দামী মিষ্টির দোকানগুলো সেজেছে নতুন রূপে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, ঈদকে কেন্দ্র করে কেজিপ্রতি মিষ্টির দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু অতিরিক্ত দামই নয়, মিষ্টির ওজনে বড় কারসাজি করা হচ্ছে রস বা শিরা দিয়ে। ক্রেতারা জানান, শুকনো মিষ্টির চেয়ে রসে ভেজানো মিষ্টির দিকেই ঝোঁক বেশি থাকে মানুষের। আর এই সুযোগে বিক্রেতারা পাত্র থেকে মিষ্টি তোলার সময় পর্যাপ্ত রসসহ তা পাল্লায় তুলছেন। ফলে এক কেজি মিষ্টি কিনলে তার প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ গ্রামই চলে যাচ্ছে মিষ্টির শিরার পেটে।
মিষ্টির বাজারের সবচেয়ে বড় এবং অভিনব প্রতারণাটি চলছে মিষ্টির কার্টুন বা বক্স নিয়ে। নিয়মানুযায়ী মিষ্টি মেপে তারপর কার্টুনে নেওয়ার কথা থাকলেও, অধিকাংশ দোকানেই কার্টুনসহ মিষ্টি পরিমাপ করা হচ্ছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন দোকানে মিষ্টির জন্য ব্যবহৃত একটি খালি কার্টুনের ওজনই ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম পর্যন্ত! হিসাব করে দেখা যায়, একজন ক্রেতা যদি ৪০০ টাকা কেজি দরে মিষ্টি কেনেন, তবে শুধু ওই কাগজের কার্টুনটির জন্যই তাকে গুণতে হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা। এ যেন ‘মিষ্টির দামে কাগজ কেনা’। সাধারণ ক্রেতারা এই দৃশ্য দেখে প্রতিবাদ করলেও বিক্রেতারা তা আমলে নিচ্ছেন না। উল্টো অনেক দোকানিকে বলতে শোনা যায়— "সব জায়গায় এভাবেই মাপা হয়।"
হাটিকুমরুলে মিষ্টি কিনতে আসা বেসরকারি চাকুরিজীবী মো. শহিদুল ইসলাম বলেন: "ঈদ উপলক্ষে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যাওয়ার জন্য মিষ্টি কিনতে এসেছি। কিন্তু মিষ্টির যে দাম, তার ওপর আবার কার্টুনের ওজন ধরে টাকা রাখা হচ্ছে। এক কেজি মিষ্টি কিনলে তার একটা বড় অংশই কার্টুন আর রসে চলে যাচ্ছে। এটা পরিষ্কার ডাকাতি।" আরেক ক্রেতা আব্দুল খালেক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "কার্টুনের ওজন মিষ্টির ওজনে বাদ দেওয়ার নিয়ম থাকলেও কেউ তা মানছে না। প্রশাসনের উচিত এখনই এসব দোকানে অভিযান চালানো।"
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রতি বছরই ঈদের সময় মিষ্টির বাজারে এমন নৈরাজ্য তৈরি হয়। জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনের নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও কঠোর জরিমানা না করার কারণেই পার পেয়ে যাচ্ছে এই অসাধু চক্র। আসন্ন ঈদের আনন্দ যেন সাধারণ মানুষের কাছে বিষাদে পরিণত না হয়, সেজন্য সিরাজগঞ্জের সচেতন নাগরিক সমাজ অনতিবিলম্বে মিষ্টির দোকানগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব নুরুল হক নয়ন
✆ ০৯৬৩৮-৯০৭৬৩৬। ই মেইল: thedailydrishyapat@gmail.com
।
Copyright 2025 Pratidinerdrishyapat