সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
এক সময় সর্বহারা চরমপন্থিদের অবাধ বিচরণে আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছিল সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলা। চাঁদাবাজি, ডাকাতি, ছিনতাই আর খুন ছিল নিত্য নৈমত্তিক ঘটনা। সময়ের ব্যবধানে সেই জেলাগুলো এখন অনেকটাই চরমপন্থামুক্ত হয়েছে। দফায় দফায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে চরমপন্থি সংগঠনের সদস্যরা।
এরই ধারাবাহিকতায় ওই তিন জেলার আরও প্রায় ৭০ জন চরমপন্থি সর্বহারা আলোর পথে ফিরে আসতে চলেছেন।
আগামীকাল রোববার (১ নভেম্বর) সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা দুপুরে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটেলিয়ন এসআরবি-১২ এর প্রধান কার্যালয়ে আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন তিন জেলার প্রায় ৭০ জন চরমপন্থি সদস্য।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে এসআরবি-১২ এর একটি সূত্র তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।
সূত্রটি জানিয়েছে, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার ৭০ জন চরমপন্থি আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন। আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এসআরবি মিডিয়া সেল জানিয়েছে, রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় চরমপন্থি সর্বহারা দলের সদস্যদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন এসআরবি মহাপরিচালক আহসান হাবিব পলাশ।
এছাড়াও সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন, পুলিশ, এসআরবি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ীসহ আশপাশের জেলাগুলোতে মার্কস-লেলিন ও মাওবাদী আদর্শের নামে ১৪টি চরমপন্থি সংগঠন সক্রিয় ছিল। এরমধ্যে পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি এম এল (লাল পতাকা), পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টি (এমবিআরএম) ও পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টি (জনযুদ্ধ) অন্যতম। ১৯৬৮ সাল থেকে এসব সংগঠন বিস্তৃত হতে থাকে।
তরুণ সমাজকে ভুল বুঝিয়ে দলে ভেড়াতে থাকে চরমপন্থিদের শীর্ষ নেতারা। আশি-নব্বইয়ের দশকে ব্যাপক বিস্তার লাভ করে চরমপন্থি সংগঠনগুলো। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে প্রকাশ্যে সশস্ত্র মহড়া দিয়ে আলাদা রাজত্ব কায়েম করতে থাকে তারা। হত্যা করা হয় কয়েক হাজার মানুষকে। পরবর্তীতে আধিপত্য বিস্তার ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়ে বিভিন্ন দল-উপদলে বিভক্ত হতে থাকে তারা। একে অপরকে হত্যা করতে থাকে। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে আতংক আরও বেড়ে যায়।
এ অবস্থায় ১৯৯৮ সালে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিমের হাতে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন চরমপন্থিদলের শীর্ষ নেতাসহ শতাধিক সদস্য। এরপর ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল পাবনায় পুলিশের কাছে ৫৯৬ জন চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। ২০২৩ সালের ২১ মে সিরাজগঞ্জে তৎকালীন র্যাব-১২ কার্যালয়ে ৭ জেলার আরও ৩২৩ জন চরমপন্থি আত্মসমর্পণ করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় রোববার তিন জেলার ৭০ সর্বহারা চরমপন্থি আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে এসআরবি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব নুরুল হক নয়ন
✆ ০৯৬৩৮-৯০৭৬৩৬। ই মেইল: thedailydrishyapat@gmail.com
।
Copyright 2025 Pratidinerdrishyapat