পারভেজ বাঙালী,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে চোরাই মোবাইল কেনাবেচা ও আইএমইআই নম্বর পরিবর্তনকারী একটি আন্তঃজেলা সংঘবদ্ধ চক্রের মূলহোতাসহ পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২৪টি আইফোনসহ মোট ১৫৭টি মোবাইল ফোন, পাঁচটি ল্যাপটপ, নগদ ১ লাখ ১ হাজার ৫০০ টাকা, ২০১টি সিমকার্ড এবং মোবাইলের আইএমইআই (IMEI) নম্বর পরিবর্তনের অত্যাধুনিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, সিএমপি কমিশনারের নির্দেশনায় এবং কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-এর নেতৃত্বে একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৪ জুন অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের শুরুতে হালিশহর এলাকা থেকে জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে জাহাঙ্গীর মনিকে (৫২) গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোতোয়ালী থানার নন্দনকানন ১ নম্বর আবাসিক এলাকার তালেবিয়া জামে মসজিদ সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে চক্রের মূলহোতা মুহাম্মদ সোহেল উদ্দিন ওরফে ‘পার্টি সোহেল’সহ আরও চারজনকে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে জাহাঙ্গীর মনি (৫২), মুহাম্মদ সোহেল উদ্দিন ওরফে ‘পার্টি সোহেল’ (৩৫), আবু সাঈদ (৩৪), মো. শামীম (২৪) এবং সাইফুল ইসলাম (১৯)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছেন, তারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় চোর ও ছিনতাইকারী চক্রের কাছ থেকে কম মূল্যে চোরাই মোবাইল ফোন সংগ্রহ করতেন। পরে বিশেষ সফটওয়্যার, মাইক্রোস্কোপ ও উন্নত ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে মোবাইলগুলোর আইএমইআই নম্বর এবং বাহ্যিক কেসিং পরিবর্তন করে নতুন রূপ দেওয়া হতো। এরপর এসব মোবাইল চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হতো।
অভিযানে উদ্ধার করা মালামালের মধ্যে রয়েছে ১৫৭টি মোবাইল ফোন, যার মধ্যে ২৪টি আইফোন এবং ১৩৩টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল। এছাড়া পাঁচটি ল্যাপটপ, বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের ২০১টি সিমকার্ড, নগদ ১ লাখ ১ হাজার ৫০০ টাকা, একটি মাইক্রোস্কোপ, ৪৪৫টি মোবাইল কেসিং, বিভিন্ন চার্জার, মাল্টিপ্লাগ এবং আইএমইআই পরিবর্তনের যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃতরা প্রত্যেকেই পেশাদার অপরাধী। চক্রের মূলহোতা ‘পার্টি সোহেল’-এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি ও ছিনতাইয়ের আটটি মামলা রয়েছে। জাহাঙ্গীর মনির বিরুদ্ধে রয়েছে চারটি মামলা। এছাড়া আবু সাঈদের বিরুদ্ধে গাজীপুরের বাসন থানায় একটি হত্যা মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
কোতোয়ালী থানা পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪১৩/৩৪ ধারা এবং সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬-এর ২২(২)/২৭ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব নুরুল হক নয়ন
✆ ০৯৬৩৮-৯০৭৬৩৬। ই মেইল: thedailydrishyapat@gmail.com
।
Copyright 2025 Pratidinerdrishyapat